বনশ্রী ও রামপুরা শাখার উদ্বোধন, নারী ও শিশু সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার
নির্যাতিত, অধিকারবঞ্চিত ও অসহায় নারী ও শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় কাজ করবে মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী-শিশুর শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আফতাবনগরে এভারকেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বনশ্রী ও রামপুরা শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভানেত্রী এস এম মোমো।
তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বনশ্রী ও রামপুরা শাখার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির বনশ্রী ও রামপুরা শাখার আহ্বায়ক রওশন আরা লাকী। তিনি নতুন শাখার কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা।
তিনি বলেন, “আমরা অধিকারবঞ্চিত শিশু ও নারীদের জন্য কাজ করছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করছি।”
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা শুধু কোনো একটি সংগঠনের দায়িত্ব নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। নির্যাতন, বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি এবং শিশুদের অধিকার হরণের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম করা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বনশ্রী ও রামপুরা শাখার যাত্রার মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং মানবিক সমাজ গঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও বিভিন্ন সময়ে তারা নির্যাতন, অবহেলা, বৈষম্য, বাল্যবিবাহ ও নানা ধরনের সামাজিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক দায়িত্ববোধ, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ।
তারা নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য রাখেন বনশ্রী ও রামপুরা শাখার উপদেষ্টা এবং এভারকেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান খান। তিনি নারী ও শিশুদের কল্যাণে সামাজিক উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, সহসভাপতি সীমা পুষ্প, সাধারণ সম্পাদক মনিরা বুলবুল, অর্থ সম্পাদক মহসিনা আফরিন, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ারা বেগম এবং প্রচার সম্পাদক সাদিয়া আক্তার।
নতুন কমিটির সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ফারজানা আফরিন, ডলি আহমেদ ও হালিমা আক্তার কনাসহ অন্যরা। বক্তারা সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রাণবন্ত আয়োজন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলতে গান ও কবিতা পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী সাকিনা কাইয়ুম। তাঁর পরিবেশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নারী উদ্যোক্তা সুলতানা পারভীন মুক্তা।
মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বনশ্রী ও রামপুরা শাখার উদ্বোধন সংগঠনটির স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের একটি নতুন পদক্ষেপ। নতুন শাখার মাধ্যমে নারী ও শিশুর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা মনে করেন, নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে কেবল বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; প্রয়োজন ধারাবাহিক সামাজিক উদ্যোগ, জনসম্পৃক্ততা এবং বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি।
নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নতুন শাখাগুলো মানুষের কল্যাণে কাজ করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।







