, ,

সরাইলে মলাইশ রাধা মাধব মন্দিরে বেপারী গোষ্ঠীর আনন্দঘন মহাষষ্ঠী উদযাপিত

নিউজটি শেয়ার করুন

অসীম চন্দ্র দাস স্টাফ রিপোর্টার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় শ্রী শ্রী দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের মলাইশ রাধা মাধব মন্দিরে অত্যন্ত আনন্দঘন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর, ২০২৬) মহাষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গার মূল প্রতিমায় ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সূচনা ঘটে। মলাইশ বেপারী গোষ্ঠীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই পূজাকে কেন্দ্র করে ঢাকঢোল, শঙ্খধ্বনি আর কাঁসরের বাদ্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাধা মাধব মন্দির প্রাঙ্গণসহ উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপ।

শাস্ত্রমতে, আজ সকাল থেকেই দেবীর চরণে ফুল, ফল, পদ্ম ও বেলপাতাসহ নানা উপাচারে বিশেষ পূজা অর্চনা ও ঘট স্থাপন করা হয়। সন্ধ্যায় সনাতন রীতিনীতি মেনে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। হিন্দু পুরাণের বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে বাপের বাড়ি মর্ত্যলোকে কন্যারূপে আজই আগমন ঘটেছে দেবী দুর্গার। শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটেছে ঘোড়ায় চড়ে, যার ফলস্বরূপ ঝড়-বৃষ্টি বা ছত্রভঙ্গের ইঙ্গিত বহন করে এবং তিনি বিদায় নেবেন নৌকায় চড়ে, যা শস্য ও শান্তির বার্তা নিয়ে আসে।
মলাইশ বেপারী গোষ্ঠীর পূজার আয়োজকরা জানান, অশুভ শক্তির বিনাশ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মন্দিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অসুর শক্তির হাত থেকে স্বর্গলোক ও পৃথিবীকে রক্ষা করতে যেভাবে সব দেবতার তেজরশ্মি থেকে অসুরবিনাশী মহাশক্তি দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটেছিল, সেই চেতনাকে ধারণ করেই ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করছেন।
বাংলা পঞ্জিকা ও তিথির বিন্যাস অনুযায়ী, চলতি বছর শনি ও রোববার—এই দুই দিন ধরে মহাসপ্তমী তিথি থাকায় পরদিন থেকে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা গতি পাবে। মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকার মাধ্যমে দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি উদ্ভিদকে পূজা করা হবে। এরপর সোমবার মহাষ্টমীর মূল আকর্ষণ হিসেবে পালিত হবে ঐতিহাসিক ‘সন্ধিপূজা’। মঙ্গলবার মহানবমীর প্রধান আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে এই মহোৎসবের।
সরাইল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মলাইশ রাধা মাধব মন্দিরের পূজা মণ্ডপসহ উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত রয়েছে।