মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী, স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জরুরি সাড়াদান এবং দেশের গ্রামীণ এলাকার ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো সংস্কার করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনের মান উন্নয়ন করা। উপজেলা পর্যায়ে মাঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি এই দূরদর্শী লক্ষ্য ও নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। নিজ দায়িত্বের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা, সততা, মেধা এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে এই প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞে এক অভাবনীয় গতিশীলতা এনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান। কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ আন্তরিকতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত টিআর (টাকা/খাদ্য) এবং কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বন্টন নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিনিয়ত কাজ করেছেন। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাটির রাস্তাসমূহকে টেকসই করতে পরিচালিত হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) বা ইট সোলিং প্রকল্পের কাজে তাঁর কঠোর তদারকি ও নজরদারি প্রশংসনীয়। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গে মূল শহরের সহজ যোগাযোগ তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হয়েছে।
উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াতে মোঃ মিজানুর রহমান সর্বদা প্রস্তুত থাকেন। বন্যা, প্রচণ্ড খরা, কিংবা শীতকালের তীব্র শৈত্যপ্রবাহে সরকারি ত্রাণ, চাল ও শীতবস্ত্র সঠিক সময়ে প্রকৃত দুস্থ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করেন। কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি এলাকার দরিদ্র পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও অবদান রেখে চলছেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই তাঁর কাজের মূল শক্তি। প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান যাচাই করতে তিনি সরাসরি প্রকল্প স্থানগুলোতে উপস্থিত হয়ে পরিদর্শন করেন। কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে চমৎকার সমন্বয় সাধন করে কাজ করে যাচ্ছেন। এর ফলে কার্যালয়ে আসা সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই দ্রুততম সময়ে সরকারি সেবা পাচ্ছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি দপ্তরের ভাবমূর্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মোঃ মিজানুর রহমানের মতো নিবেদিতপ্রাণ ও দক্ষ কর্মকর্তার সমন্বিত প্রচেষ্টায় সরকারের রূপকল্প ও উন্নয়ন এজেন্ডাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে সফলতার মুখ দেখছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে এবং মাঠপর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জনে তাঁর এই পরিশ্রম ও দূরদর্শী ভূমিকা প্রশাসনিক সেবার ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে থাকবে।







