নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের প্রয়াত সিনিয়র স্টাফ নার্স ফ্রানচিলিয়া গমেজের পেনশন ও অবসরকালীন প্রাপ্যতা নিয়ে চলমান বিরোধে এবার গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে।
আবেদনকারীর দাবি, ঘুষ/অবৈধ আর্থিক সুবিধা দাবির অভিযোগ সংক্রান্ত কল রেকর্ড থাকার কথা জানানো হলেও সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না করে বরং প্রয়াত ফ্রানচিলিয়া গমেজের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সিভিল সার্জনের দায়িত্বকালীন কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি ওএসডি হয়েছেন।
কিন্তু ওই সময়ের অভিযোগ, কল রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ভূমিকা যথাযথভাবে যাচাই না করেই নতুন করে তদন্তের ভার বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত হোসেনের দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ফ্রানচিলিয়া গমেজের পরিবার।
আবেদনকারীর প্রশ্ন—যদি ঘুষ বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা দাবির অভিযোগের পক্ষে কল রেকর্ড থাকার দাবি থাকে, তাহলে প্রথমে সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কেন একজন মৃত কর্মচারীর ওপর দায় চাপানোর দিকে তদন্তের ফোকাস নেওয়া হচ্ছে?
তিনি বলেন, প্রয়াত ফ্রানচিলিয়া গমেজ আজ জীবিত নেই। নিজের বক্তব্য দেওয়া, আত্মপক্ষ সমর্থন করা কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত কোনো অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগও তাঁর নেই। এমন একজন মৃত কর্মচারীর ওপর দায় চাপিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা আড়াল করার চেষ্টা করা হলে তা অমানবিক এবং ন্যায়সংগত তদন্তের পরিপন্থী বলে তিনি মনে করেন।
আবেদনকারীর দাবি, “প্রয়াত একজন মানুষকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জীবিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়মুক্ত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তদন্ত হলে সবার ভূমিকা তদন্ত করতে হবে—কে নির্দেশ দিয়েছেন, কে ফাইল দেখেছেন, কে অনুমোদন দিয়েছেন, কোথায় ফাইল আটকে ছিল এবং কার দায়িত্বে বিলম্ব হয়েছে—সবকিছু সরকারি নথির ভিত্তিতে বের করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তদন্ত বন্ধ করতে চাই না। আমি নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। ঘুষের অভিযোগ থাকলে কল রেকর্ড পরীক্ষা করা হোক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করা হোক এবং প্রয়োজনে নিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীন তদন্ত করা হোক।”
আবেদনকারীর মতে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদেরই প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করা হলে স্বার্থের সংঘাত ও পক্ষপাতের আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই তিনি বর্তমান সিভিল সার্জনের দপ্তরের পরিবর্তে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ও নিয়ন্ত্রণকারী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেছেন, ফ্রানচিলিয়া গমেজের সার্ভিস বুক, নিয়োগ ও পদায়ন আদেশ, বেতন রেকর্ড, পিআরএল ও অবসর আদেশ, পেনশন ফাইল, নোটশিট, ফাইল মুভমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বের রেকর্ড যাচাই করে প্রকৃত দায় নির্ধারণ করতে হবে।
আবেদনকারীর ভাষায়, “দায় যার, নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ও তাঁরই হতে হবে। একজন প্রয়াত নার্সের ওপর সব দায় চাপিয়ে কোনো কর্মকর্তা বা দপ্তর নিজেদের দায় থেকে মুক্ত হতে পারে না।”







