, ,

আসন্ন ইউপি নির্বাচন ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর করণীয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ইউপি নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুয়ায়ী ধাপে ধাপে এবার প্রায় ৪৫৮০ টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশ্ন হলো ” ভোটের বাক্সে এবার কি শুধু প্রতিশ্রুতি ঢুকবে, নাকি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নও হবে?

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসন্ন। আবার শুরু হবে প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতা। কেউ বলবেন উন্নয়নের জোয়ার আসবে,কেউ বলবেন শান্তির সুবাতাস বইবে,কেউ নিরাপত্তার আশ্বাস দিবেন, আবার কেউ জনগণের সেবক হওয়ার শপথ গ্রহণ করবেন। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী প্রতিটি ক্ষেত্রেয় দেখা যায় যে,শপথের কালি শুকানোর আগেই সেবকের চেহারা বদলে যায়।

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের আগে সকল বড় বড় রাজনৈতিক দল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।নির্বাচনের ৭ মাস পার হলেও প্রতিশ্রুতি পূরণের কোন অগ্রগতি দৃষ্টিগোচর হয় নাই।

লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের আগে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোটের জন্য নিরাপত্তা বিষয়টি এতো গুরুত্বপূর্ণ কেনো হয়ে উঠলো?
এই থেকে কী প্রমাণ হয় না যে,বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার আসলেই ঘাড়তি রয়েছে?

প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে বড় বড় রাজনৈতিক দল গুলো ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়।আবার তারাই নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর বলেন বাংলাদেশে কোন ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন হয় না।নির্বাচনের আগে ও পরে একই ব্যক্তির ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যের কারণে প্রকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একসময় গ্রামবাংলার একটি উৎসবে পরিণত হতো।কিন্তু এখন এটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।সরকারি দলের ব্যানার লাগিয়ে যারা চাঁদাবাজী করছে,জায়গা দখল করছে আবার তারাই ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে যারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়েছেন। ভোটের পরে তারাই নিরীহ ধর্মগুরু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু কে মুক্তি না দিয়ে কারাগারে বন্দী করে রেখেছেন।তার মা মৃত্যু সজ্যায় তার সন্তান কে একবার চোখের সামনে দেখার জন্য ভিডিও বার্তায় সরকার কে অনুরোধ করেছিলেন কিন্তু তার সেই আকুতিতে রাষ্ট্রযন্ত্রের কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙ্গে নাই।এমনকি মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ ঘন্টার প্যারোলে বের হয়ে তাঁকে আবারও কারাগারে ফিরতে হয়েছে। কিন্তু দীপু চন্দ্র দাসকে দিবালোকে জনসম্মুখে জীবন্ত পুরিয়ে মারার প্রধান আসামি জামিনে বের হয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে।একই সাথে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভগবান শ্রী রাম চন্দ্রের প্রতিমা নির্মাণকাজ জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

প্রশ্ন হলো – আইনের চোখ কি সত্যি সবার জন্য সমান?
একদিকে যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের ছায়ায় অপরাধীরা দাপিয়ে বেড়ানোর সুযোগ পাই,অন্যদিকে যদি ধর্মীয় পরিচয় কে কেন্দ্র করে মানুষের ভিতর ভয় তৈরী হয়।তাহলে গণতন্ত্রের সাইনবোর্ড যতই বড় হোক না কেনো,ভেতরের দোকানটি সেই ছোটই রয়ে যায়।

আবার তথাকথিত বিরোধী দলের প্রতি অভিযোগ রয়েছে ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন তৈরি করার।ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করলে সেটা শুধু ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকর হবে না একই সাথে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিপদ বয়ে আনবে।
তাই আসন্ন ইউপি নির্বাচন শুধু চেয়ারম্যান মেম্বার নির্বাচনের বিষয় নয়।এটি স্থানীয় পর্যায়ে আমরা কেমন নেতৃত্ব দেখতে চাই তাঁরও একটি পরীক্ষা।

ইউপি নির্বাচন শুধু একটি সাধারণ নির্বাচন নয় এটি একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ প্রসস্থ করবে।ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যদি নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে তাহলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা শুধু প্রতিশ্রুতির পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে থাকবে না বাস্তবে পরিণত হবে।