অসীম চন্দ্র দাস, সরাইল ( ব্রাহ্মণবাড়ীয়া): আমাদের চোখের পানি আর রাস্তার জমে থাকা কাদা-পানি এখন জীবনের নতুন এক কষ্টের গল্প তৈরি করেছে। জনপ্রতিনিধিরা বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই দিয়ে গেলেন, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হলো না।
ক্ষোভ ও চরম আকুতি মেশানো এই কথাগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ১০নং শাহবাজপুর ইউনিয়নের ২নং ওর্য়াডের কাংকুর মিয়া পাড়া ও বন্দরে হাটি এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের। স্বাধীনতার এত বছর পার হলেও এই জনপদের একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি আজ অবধি কাঁচা ও মাটির রাস্তা হিসেবেই রয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে যেন মাছ চাষের উপযোগী পুকুরে পরিণত হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে কাংকুর মিয়া পাড়া ও বন্দরে হাটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগের চিত্র।
২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র সম্বল এই সড়কটির বর্তমান দশা এতটাই শোচনীয় যে, সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই হাঁটু সমান কাদা আর নোংরা পানি জমে পথচারীদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার পুরো অংশ জুড়ে শুধু কাদা আর পানির বড় বড় গর্ত। পুরো এলাকায় যাতায়াতের আর কোনো বিকল্প রাস্তা না থাকায় এই মরণফাঁদ মাড়িয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও মুমূর্ষু রোগীসহ হাজারো মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একের পর এক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসে আর যায়। অনেক মেম্বার-চেয়ারম্যান ভোটের আগে রাস্তাটি পাকা করার বড় বড় আশ্বাস দিয়ে গেছেন, কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ কথা রাখেননি। জনপ্রতিনিধিদের এই উদাসীনতার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
রাস্তার এই বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কাদা-পানির কারণে স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনের পর দিন তারা ঘরবন্দী হয়ে সময় কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সন্তানরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে এখন অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ঘরবন্দী থাকার ফলে তারা পড়াশোনা ছেড়ে মোবাইল গেমস এবং মারাত্মক সব অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই রাস্তাটি শুধু আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”
অনন্যোপায় হয়ে কাংকুর মিয়া পাড়া ও বন্দরে হাটি এলাকার সর্বস্তরের ভুক্তভোগী জনগণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের কাছে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি পাকা বা টেকসই সংস্কারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, দ্রুত এই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তাদের সন্তানদের আবার শিক্ষাঙ্গনে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।







