সাতক্ষীরা ৪ আসনের এমপি বহিষ্কার, মিষ্টি বিতরণ ও সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এবং তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নূরনগর মৎস্যসেটসহ বিভিন্ন এলাকায় সাতক্ষীরা জেলা তাঁতি দলের সাবেক সহ-সভাপতি, নূরনগর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক জি এম আবু ইউসুফ এর নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ শেষে স্থানীয় মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এসময় সাতক্ষীরা জেলা তাঁতি দলের সাবেক সহ-সভাপতি জি এম আবু ইউসুফ বলেন,জনপ্রতিনিধি জনগণের আস্থা ও মর্যাদার প্রতীক। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, যা জনগণের বিশ্বাস ও এলাকার সম্মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তাহলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আমরা চাই, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। সত্যতা প্রমাণিত হলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আমরা ব্যক্তি বিদ্বেষ নয়, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও শ্যামনগরের সম্মান রক্ষার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছি।
বিক্ষোভ ও মিষ্টি বিতরণকালে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি একজন তরুণীকে নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমদিকে ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হলেও, পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে আরও কিছু ভিডিও প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।
পরে গাজী নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন।
বক্তাদের দাবি, এসব ঘটনার ফলে একজন জনপ্রতিনিধির নৈতিক অবস্থান, জনআস্থা এবং শ্যামনগর উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সংসদ সদস্য পদ বাতিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে জনপ্রতিনিধি দের সর্বোচ্চ নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।







