কবিতা: একটি ফুলের কুঁড়ি ঝরে গেল
কলমে: সন্দ্বীপ কুমার ঘোষ
রামিসা নামের একটি ফুলের কুঁড়ি ঝরে গেল।
সে ফুল হয়ে উঠতে পারল না, হয়ে গেল শুধুই ছবি।
প্রতিদিন লালসার বলিদান হচ্ছে কত শত রামিসা, দোলন,
পুষ্পা, মিথিলা, জিনিয়া, তাবাসসুমেরা।
কুৎসিত, মনুষ্যত্বহীন মনুষ্য প্রজাতির শেয়াল-কুকুরের ছোবলে
ধর্ষিত হচ্ছে, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে গোটা নারী জাতি—
যারা আমার মা, বোন, কন্যা, জায়া, ভগিনী।
লোলুপতা কেড়ে নিচ্ছে কচি প্রাণ, নিষ্ঠুর নখের থাবায়।
ক্ষণিকের পৌরুষ ফলাতে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য তারা শকুন।
আমরা কি আদিম যুগে ফিরে গেছি?
না-কি দুঃস্বপ্নের প্রতিচ্ছবি হয়ে জাতির স্কন্ধে
ভর করেছে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির হায়েনারা?
আমি বাকরুদ্ধ। চোখ ছলছল করছে।
কিছুই করতে পারছি না।
রামিসাকে বাঁচাতে পারিনি—
এই অপরাধ কুরে কুরে খাচ্ছে আমার হৃৎপিণ্ড।
কত নির্মমতার শিকার হয়ে মৃত্যুযন্ত্রণা গলাধঃকরণ করেছে সে!
মা রামিসা, তোমার কুঁড়ি হয়ে ঝরে পড়া আমরা মেনে নিতে পারছি না।
সচেতন জনতা আজ ফুঁসে উঠেছে।
তুমি কবরে চিরনিদ্রায় শান্তিতে শায়িত থাকো, সোনা।
তুমি ওপার থেকে দেখো— একদিন নতুন সূর্য উদিত হবেই।
যে ব্যর্থতার গ্লানি এখনো পাল্টাতে পারেনি এ সমাজব্যবস্থা,
ধর্ষণ, খুন, হত্যা, রাহাজানি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
তবু যত দেশনায়ক এসেছেন এই প্রান্তরে,
কেউ নারী ভোগের উৎসব রহিত করতে পারেননি।
যদি পৌরুষ বিলীন হয়ে যায়,
বীর্য স্খলনের দিগন্ত রেখা মুছে যায়,
মনোরঞ্জনের পথ হয় কণ্টকময়—
তাহলেই হয়তো মা রামিসাদের ঝরে পড়া রুখতে পারবে এই সমাজ।



