বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু সময় আসে, যখন একটি আঞ্চলিক সংঘাত হঠাৎ করেই বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। ২০২৬ সালের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেটি অনেক বিশ্লেষকের মতে তেমনই একটি মোড়বদলের মুহূর্ত। দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘ছায়া যুদ্ধ’ এখন যখন সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে, তখন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—পুরো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাই নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্ব শক্তির প্রকৃত বিন্যাস কোথায় দাঁড়িয়ে আছে এবং আগামী দশকে সেটি কোন দিকে যাবে—এই প্রশ্ন আবার সামনে চলে এসেছে।
ইরান ও ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর শিকড় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীরভাবে প্রোথিত। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে তেহরান ও তেলআবিবের সম্পর্ক দ্রুত শত্রুতার পর্যায়ে চলে যায়। বিপ্লব-পরবর্তী ইরান নিজেদেরকে শুধু একটি রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং একটি আদর্শিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করে। সেই আদর্শের কেন্দ্রে ছিল পশ্চিমা আধিপত্যের বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নকে মুসলিম বিশ্বের একটি প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ইসরায়েল এই অবস্থানকে তাদের রাষ্ট্রিক নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে এমন একটি সংঘাতের ভিত্তি তৈরি হয়, যা কখনও সাইবার হামলা, কখনও প্রক্সি যুদ্ধ, আবার কখনও সীমিত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভিন্ন। কারণ এবার দ্বন্দ্বটি শুধু আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কৌশলগত হিসাবও। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এই দাবির সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক থাকলেও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতিতে বিষয়টি একটি কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের আশঙ্কা—যদি ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য আমূল বদলে যাবে এবং ইসরায়েলের কৌশলগত সুবিধা অনেকটাই কমে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও বিস্তৃত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রভাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানকার জ্বালানি সম্পদ, সামরিক ঘাঁটি এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা—সবকিছু মিলিয়ে অঞ্চলটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকারের অংশ। ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব সেই কাঠামোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করে, ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে সীমিত করা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ জোট মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরায়েল পশ্চিমা বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত হয়। সামরিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে এই সম্পর্ক ধীরে ধীরে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক রাজনৈতিক সমীকরণই এই জোটকে ঘিরে তৈরি হতে থাকে। ইসরায়েল নিজেকে একটি নিরাপত্তা-সংকটাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরে, আর যুক্তরাষ্ট্র তাকে একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে—যে রাষ্ট্র অঞ্চলটিতে পশ্চিমা প্রভাব ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
কিন্তু এই সম্পর্ককে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের নীতি নিয়ে বিশ্বের বহু দেশে সমালোচনা রয়েছে। পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় দীর্ঘদিনের দখলনীতি, বসতি সম্প্রসারণ, সামরিক অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অনেক মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী দমননীতির কারণে বিশ্বব্যাপী জনমতের একটি বড় অংশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই কারণেই অনেক বিশ্লেষক ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি “গণধিকৃত রাষ্ট্র” হিসেবে বর্ণনা করেন—একটি রাষ্ট্র যার সামরিক ক্ষমতা শক্তিশালী হলেও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গভীর বিতর্ক রয়েছে।
এই বিতর্কের পেছনে ফিলিস্তিন প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক দশক ধরে চলা সংঘাত শুধু একটি ভূখণ্ডগত বিরোধ নয়; এটি জাতীয় অধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং মানবাধিকারের প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িত। জাতিসংঘের অসংখ্য প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন এবং বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমতের উত্থান এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটকে কেবল সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়; এটি একই সঙ্গে ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের সমর্থকদের যুক্তি ভিন্ন। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাস্তবতা এতটাই জটিল যে ইসরায়েলকে সবসময় অস্তিত্বের হুমকির মধ্যে থাকতে হয়। আশপাশের বহু রাষ্ট্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর শত্রুতাপূর্ণ অবস্থান, রকেট হামলা কিংবা সীমান্তবর্তী সংঘাত—এসব কারণে তারা মনে করে শক্তিশালী সামরিক নীতি ছাড়া রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্কটি একদিকে মানবাধিকার ও নৈতিকতার প্রশ্ন বলে বোঝানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাস্তবতার প্রশ্ন হিসেবেও সামনে আনছে। যদিও তাদের মানবতা বিরোধী আগ্রাসী অবস্থান বিশ্ববাসীর কাছে খুবই স্পষ্ট।
ইরানকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনা এই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। যুক্তরাজ্য তথা পশ্চিমাদের, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ বহুদিনের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক আলোচনা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এই কর্মসূচিকে সীমিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইসরায়েল মনে করে, কেবল কূটনৈতিক চাপ যথেষ্ট নয়। তাদের আশঙ্কা—যদি ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দেবে।
সমালোচকরা অবশ্য ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তাদের মতে, বিষয়টি কেবল পারমাণবিক অস্ত্রের প্রশ্ন নয়; বরং এটি বৃহত্তর শক্তি রাজনীতির অংশ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্বাধীন আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক বলয় গড়ে তুলতে চাইছে। লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হুথি আন্দোলন কিংবা সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক—এসবের মাধ্যমে ইরান একটি আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই নেটওয়ার্ক পশ্চিমা কৌশলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাষ্ট্রগুলোর অবস্থানও অত্যন্ত জটিল। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা জর্ডানের মতো দেশগুলো ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। কিন্তু একই সঙ্গে তারা জানে যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ তাদের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তেল স্থাপনা বা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ যদি সংঘাতের মধ্যে পড়ে, তবে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতেই পড়বে। ফলে এসব দেশ অনেক সময় এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল গ্রহণ করে—একদিকে ইরানের শক্তি বৃদ্ধিকে সীমিত করার চেষ্টা, অন্যদিকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে দূরে থাকা।
রাশিয়া ও চীনের ভূমিকা এই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে গভীর রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত সৃষ্টি হলে পশ্চিমা শক্তির মনোযোগ বিভক্ত হতে পারে—যা মস্কোর জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় থেকেই রাশিয়া এই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী করেছে এবং ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
চীনের অবস্থান তুলনামূলকভাবে আলাদা। বেইজিং সরাসরি সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে না গিয়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করে। মধ্যপ্রাচ্য চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ কারণেই চীন সাধারণত কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং নিজেকে একটি সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চায়।
এই সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মুসলিম বিশ্বের জনমত ও রাষ্ট্রনীতির মধ্যে পার্থক্য। সাধারণ মানুষের আবেগ অনেক সময় ফিলিস্তিন প্রশ্ন ও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের দিকে ঝুঁকে থাকে। কিন্তু রাষ্ট্রনেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তব হিসাব কষে। ফলে প্রায়ই দেখা যায় জনমত ও রাষ্ট্রনীতির মধ্যে একটি অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হয়।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানি বাজারের কেন্দ্র। যদি পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বা তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্য, পরিবহন এবং শিল্প উৎপাদনের ওপর। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ তাদের অর্থনীতি অনেকাংশে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বরাজনীতির সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে—আমরা কি আবার নতুন মেরুকরণের যুগে প্রবেশ করছি? একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনকে ঘিরে একটি বিকল্প শক্তি কাঠামো—এই দুই মেরুর প্রতিযোগিতা যদি আরও তীব্র হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
তবে ইতিহাস একই সঙ্গে আরেকটি শিক্ষা দেয়। বড় যুদ্ধের ভয়াবহতা শেষ পর্যন্ত অনেক সময় কূটনীতিকেই সামনে নিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতা হলো—কোনো পক্ষই দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার মধ্যে থাকতে চায় না। অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটও সেই দ্বৈত বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে আছে—একদিকে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা। বিশ্বরাজনীতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে এই দুই শক্তির মধ্যে কোনটি শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পায় তার ওপর। যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তবে ২০২৬ সাল হয়তো বিশ্ব ইতিহাসে নতুন অস্থিরতার সূচনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর যদি কূটনীতির পথই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়, তবে এই সংকট হয়তো ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য একটি নতুন ভারসাম্যের ভিত্তিও তৈরি করতে পারে।
রাজু আলীম
কবি, সাংবাদিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব






