বদলি-পদায়ন, ঠিকাদারি ও তদবির নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ—স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এপিএসের প্রভাব নিয়ে প্রশ্নস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বেপরোয়া সিন্ডিকেটের চক্রান্ত: একাকী লড়ছেন ৮০ বছরের বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাস্থ্যমন্ত্রী, নেপথ্যে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্য
বিশেষ প্রতিবেদক: বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং দপ্তর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার ধ্বংসস্তূপ কাটিয়ে উঠে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তবে একটি স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তার এই সংস্কারমূলক উদ্যোগকে নস্যাৎ করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অনুসন্ধান জানা গেছে, ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ এই মন্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে একটি মহল চিকিৎসক সমিতি ও মিডিয়াকে মন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের মুখোমুখি করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিরলস পথচলা
বর্তমান সরকারের টানা ছয় মাসের চলমান মেয়াদের শুরু থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বয়স ৮০ ছুঁইছুঁই হলেও সকাল ৯টা থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত তিনি মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ পরিদর্শন, স্বাস্থ্যসেবার মান যাচাই, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি মাঠে-ঘাটে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
চিকিৎসকদের প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ করে মন্ত্রী এক আলোচনা সভায় স্পষ্টভাবে বলেছেন,
”চিকিৎসকরা আমাদের সমাজের অত্যন্ত মেধাবী ও সম্মানিত ব্যক্তি। আমি কোনোভাবেই চিকিৎসকদের শত্রু নই; অসুস্থ হলে আমাকেও তাদের কাছেই যেতে হবে। আমি তাদের সম্মান করি এবং তারা আমাদের দেশের সম্পদ। আমি কেবল তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিক সহযোগিতা চাই। তবে গত ১৫ বছরের সুবিধাবাদী ও উশৃঙ্খল কিছু অসাধু লোক চিকিৎসক পরিষদে ঢুকে যে অনিয়ম করছে, আমি কেবল সেসব চিহ্নিত করে একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন—”আমরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আপনারা যখন কাউকে সেবা দেবেন, তখন রোগীদের নিজের বাবা-মায়ের চোখে দেখার চেষ্টা করবেন। তাহলেই প্রান্তিক পর্যায়ে সেবার মান বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ব্যর্থ প্রমাণ ও সরানোর চক্রান্ত
এতটা আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে কাজ করা সত্ত্বেও মন্ত্রণালয়ের একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অনিয়ম দেখলেই তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে যাওয়া ও সত্য তুলে ধরাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে একটি শ্রেণি তাকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে চায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মিডিয়াতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করে চিকিৎসকদের ক্ষুব্ধ করে তোলা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে সরিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রীর চেয়ারে বসানো।
অতীতের রাজনীতিতে নেই ভূমিকা, উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন প্রতিমন্ত্রী
অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বর্তমান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক পিনাকী ভট্টাচার্যের ভিডিও বিশ্লেষণ ও গোপন সূত্রে জানা যায়, বিএনপি রাজনীতির আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ ১৫ বছরের ইতিহাসে ড. মুহিতের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না। দলীয় কোনো মামলা-হামলা, জেল-জুলুম বা রাজপথের সংগ্রামে তার নাম কখনো দেখা যায়নি। তিনি মূলত অতীত জীবনে জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার পরিবারও ছাত্রলীগের রাজনীতির অনুসারী ছিল। অথচ বিগত ১৫ বছর ধরে দেশের অভ্যন্তরে নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে যেসব জ্যেষ্ঠ নেতা রাজনীতি টিকে রেখেছেন, তাদের বঞ্চিত করে হঠাৎ করে প্রবাস থেকে এসে তিনি সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর চেয়ার দখল করে বসেছেন।
এপিএস মামুনের নিয়ন্ত্রণে কোটি কোটি টাকার বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্য
প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও এপিএস মামুনের নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে:
গণবদলি সুপারিশ: জনপ্রতিনিধিরা দু-একটি এলাকার সুপারিশ করা স্বাভাবিক হলেও, প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ফরম্যাট আকারে একসঙ্গে ৩০, ৫০ এমনকি ১০০ জন ডাক্তারের বদলি ও পদায়নের সুবিশাল তালিকা পাঠানো হচ্ছে।
১০% কমিশন বাণিজ্য: স্বাস্থ্য খাতের ছোট-বড় যেকোনো ঠিকাদারি কাজের জন্য এপিএস মামুনকে বাধ্যতামূলক ১০ শতাংশ (10%) কমিশন দিতে হয়। তা না দিলে কোনো ঠিকাদার কাজ পান না বলে মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ে স্থবিরতা: মামুন দপ্তরে না থাকলে টানা ৩ সপ্তাহ ধরে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল আটকে থাকছে। প্রতিমন্ত্রীও তার এপিএসের নির্দেশনামাফিক চলছেন এবং তার পরামর্শ ছাড়া কোনো ফাইলে সই পর্যন্ত করছেন না।
মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন: একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিমন্ত্রীর এপিএস মামুনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এখন চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে।
প্রচারণা: এপিএস মামুন ইতিমধ্যেই সর্বত্র ঘোষণা দেওয়া শুরু করেছেন যে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী নাকি খুব শীঘ্রই পূর্ণ মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, সুতরাং সব ফাইল বা কাজের তদবির যেন তার মাধ্যমেই করা হয়।
জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ক্ষোভ
প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের পিএস ও এপিএসের অসংবেদনশীল ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে ক্ষুব্ধ বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও। সম্প্রতি বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে, পরিচয় দেওয়ার পরও এপিএস মামুন তা দেখেও না দেখার ভান করে বসে থাকেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর অপমানিত বোধ করে ওই নেতা শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎ না করেই ফিরে যান।
মন্ত্রণালয়ের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আক্ষেপ করে তিনি বলেন,
”গত ১৫ বছর রক্ত-ঘাম ফেলে রাজপথে আন্দোলন করার পর আজ কাকে এনে প্রতিমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো হয়েছে! মন্ত্রীর এপিএসের পাওয়ার এতটাই বেশি যে প্রবীণ নেতাদের মূল্যায়নও তারা জানে না। এদের তো লাল পাসপোর্ট-কালো পাসপোর্ট আগে থেকেই তৈরি করা আছে, দেশীয় সংকট দেখা দিলে রাতের আঁধারে বিদেশে পালিয়ে যাবে। আর বিপদে পড়তে হবে আমাদের মতো সাধারণ মাঠের কর্মীদের।”
জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো অতি স্পর্শকাতর একটি খাতকে সিন্ডিকেট ও দালাল মুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল ও সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যুগ্ম সচিব জানান, ৮০ বছরের বয়োবৃদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেভাবে একা লড়ে যাচ্ছেন, তার সঙ্গে যদি প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা সমন্বয় রেখে কাজ করতেন, তবে দ্রুততম সময়ে স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব হতো। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্য সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সরকারের ভাবমূর্তি আরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দীর্ঘ ১৫ বছর রাজপথে জেল-জুলুম সহ্য করা তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন, হঠাৎ রাজনীতিতে উপস্থিত হয়ে প্রশাসনিক বড় পদ লাভ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে ক্ষমতার সূক্ষ্ম লড়াই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্য খাতকে সংস্কারের সর্বোচ্চ চেষ্টার মাঝেও মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, এপিএস সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা।
রাজপথের ত্যাগীদের ক্ষোভ ও ‘আলাদিনের চেরাগ’
দলের দুঃসময়ে মাঠপর্যায়ে লড়াই-সংগ্রাম করা ত্যাগী ও আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে পারিবারিক সূত্রে কিংবা সুবিধাজনক সময়ে রাজনীতিতে আগমনকারীদের হঠাৎ পদায়ন নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ—বছরের পর বছর রাজপথে আন্দোলনকারী নেতাদের পেছনে ফেলে অনেকে প্রবাস থেকে এসে কিংবা অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সমঝোতা বজায় রেখে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা একে ‘আলাদিনের চেরাগ’ পাওয়ার সাথে তুলনা করছেন। দীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষার পর অর্জিত নতুন প্রশাসনিক কাঠামোয় অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদদের অনুপস্থিতি সার্বিক সরকার পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উত্তরাধিকার রাজনীতি ও প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক পদচ্ছাপ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের উত্থানের পেছনে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে তার পারিবারিক পরিচিতি। তিনি সাবেক প্রবীণ রাজনীতিক ও একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রয়াত অধ্যাপক ডা. এম এ মতিনের সন্তান। পারিবারিক সুবাদে রাজনীতিতে আসা ড. মুহিত ২০১৮ সালে প্রথম সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। পরবর্তীতে শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তবে ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দলের কঠিন সময়ে তার সক্রিয়তা ও দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ রয়েছে।
প্রবীণ মন্ত্রীর একাকী সংগ্রাম ও ‘মাইনাস’ ফর্মুলা
বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট রূপ নিয়েছে। ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের ভেতরের সূত্রগুলো জানায়, তাকে প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা ও রাজনৈতিকভাবে ‘মাইনাস’ করার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।
একটি বিশেষ মহল কৌশলে প্রবীণ মন্ত্রীকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, যাতে তিনি অসতর্ক অবস্থায় কোনো বিতর্কিত পদক্ষেপ নেন। শুধু তা-ই নয়, কৌশলে চিকিৎসকদের একটি অংশকে মন্ত্রীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে মিডিয়ায় ভুল ব্যাখ্যা প্রচারের চক্রান্ত চলছে বলে একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। ফলে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেও নিজ মন্ত্রণালয়েই একপ্রকার অসচ্ছল ও সহায়হীন অবস্থায় পড়েছেন।
এপিএস সিন্ডিকেট ও অবৈধ আর্থিক লেনদেন
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত নিজে নীতিগতভাবে নীরব ভূমিকা পালন করলেও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও এপিএস মামুন ব্যাকস্টেজে থেকে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চাবিকাঠি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রবীণ স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনৈতিক সুবিধা ও অবৈধ লেনদেনে বাধা হওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাকে সরাতে বড় ধরনের আর্থিক চালিকাশক্তি ব্যবহার করছে। মন্ত্রী পদে পরিবর্তন আনতে পারলে কোটি কোটি টাকার অনৈতিক লেনদেন ও বাণিজ্যের পথ উন্মুক্ত হবে—এই আশায় একটি চিকিৎসক সিন্ডিকেট ও মিডিয়া গ্রুপকে পেছনে দাঁড়িয়ে মদদ দেওয়া হচ্ছে।
বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্য সেবা
সরকারপ্রধানের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে দায়িত্ব পালন করা প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীকে একঘরে করে রাখা এবং এপিএসকেন্দ্রিক ক্ষমতার বলয় গড়ে তোলায় ধসে পড়ছে স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জায়গায় এখন ঘুরপাক খাচ্ছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চক্রান্ত। সরকারের ভেতরের এমন সুযোগসন্ধানী চক্রের অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে স্বাস্থ্য খাত আরও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।







