কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের আসমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সেলিম হোসেন (৩২) সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে কর্মরত অবস্থায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। তার পিতা আইয়ুব হোসেন ও মাতা শাহিদা বেগম।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১ তারিখ সোমবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে কাজ শেষ করে সেলিম ব্রেক টাইমে রুমে যান। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে ফোন কেটে ঘুমানোর কথা জানান। তবে মোবাইল ফোনের লোকেশন অনুযায়ী তিনি রুমের বাইরে বের হয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিছুক্ষণ পর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরে রিয়াদ এলাকায় অল্প সময়ের জন্য ফোন চালু হলেও এরপর থেকে সেটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সেলিমের পরিবার আশঙ্কা করছে, তিনি অপহরণের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। সেলিমের বড় বোন জানান, এর আগে তার ভাইয়ের সঙ্গে প্রবাসে কফিলের সঙ্গে বিরোধ ছিল এবং সেই ঘটনার জের ধরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।
অন্যদিকে, সেলিমের সহকর্মী ও ব্যবসায়িক অংশীদার সজীবের দাবি, সেলিমের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক লেনদেন চলমান ছিল। মোট ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগের মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছিল এবং বাকি অর্থ পরিশোধের কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধের আগেই সেলিম হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে দাবি করেন তিনি।
সজীব আরো অভিযোগ করেন, সেলিম নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি বাদী হয়ে দাম্মাম পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি সৌদি আরবের সিআইডির কাছে তদন্তের জন্য হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পরে মামলাটি রিয়াদে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সজীব আরও দাবি করেন, অতীতেও সেলিম অপহরণের ঘটনা সাজিয়ে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, সেলিমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমিও চাই প্রকৃত ঘটনা দ্রুত উদঘাটিত হোক এবং সেলিমের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাক।
এদিকে, সেলিমের পরিবার দ্রুত তার সন্ধান এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। অপহরণ, আত্মগোপন নাকি অন্য কোনো কারণে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।







