বিশ্লেষণ, কলম সৈনিক মোঃ আমির হোসেন স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা, একটি স্মার্টফোন বা মোজো সাংবাদিকতাকে ছোট করে দেখবেন না—সাংবাদিকতার মান নির্ধারিত হয় কাজে, ক্যামেরায় নয়!
সাংবাদিকতার নতুন বাস্তবতাকে অমূল্যায়ন নয়, অনুধাবন করা জরুরী
বর্তমান সময়ে মূলধারার সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষের মধ্যে মোজো সাংবাদিকতাকে ছোট করে দেখার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। অনেকের ধারণা, হাতে একটি স্মার্টফোন নিয়ে ভিডিও ধারণ করে সংবাদ প্রকাশ করলেই সাংবাদিক হওয়া যায় না।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—**সাংবাদিকতার যোগ্যতা কি ক্যামেরার দামে নির্ধারিত হয়, নাকি সংবাদের সত্যতা, তথ্যের নির্ভুলতা, পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়?
একটি স্মার্ট ফোন ছোট হতে পারে কিন্তু সাংবাদিকতার দায়িত্ব ছোট নয়
প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকতার ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে। এখন একটি স্মার্টফোনের মাধ্যমেই ঘটনাস্থল থেকে সংবাদ সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, ভিডিও ধারণ এবং তথ্য যাচাই করে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
গ্রামের কোনো অনিয়ম, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, সরকারি সেবায় হয়রানি কিংবা দুর্যোগের চিত্র—অনেক ক্ষেত্রেই মোজো সাংবাদিকরা দ্রুত জনসমক্ষে তুলে ধরতে পারেন। তাঁদের এই কাজ জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাহলে শুধু স্মার্টফোন দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন বলে একজন মোজো সাংবাদিককে ছোট করে দেখার যুক্তি কোথায়?
মূল ধারার সাংবাদিকতা বনাম মোজো সাংবাদিকতা প্রতিযোগিতা নয়, মানের প্রতিযোগিতা হোক,
মূলধারার সাংবাদিকতার রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ। অন্যদিকে, মোজো সাংবাদিকতা সংবাদ সংগ্রহের গতিশীলতা, তাৎক্ষণিকতা এবং সহজে মানুষের কাছে পৌঁছানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
দুটি মাধ্যমের কাজের ধরন আলাদা হতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব একই—সত্য তুলে ধরা, তথ্য যাচাই করা, জনস্বার্থ রক্ষা করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা।
মনে রাখতে হবে, বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেই প্রতিটি সংবাদ নির্ভুল হয়ে যায় না। আবার স্মার্টফোন দিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করলেই কেউ অযোগ্য হয়ে যান না।
ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয়য়ের চেয়ে, একটি সংবাদকর্মীর কাজের মান সততা এবং দায়িত্ববোধ বশি গুরুত্বপূর্ণ
তবে মোজো সাংবাদিকতার নামেও অপ সাংবাদিকতার সুযোগ নেই
শুধু একটি মোবাইল ও মাইক্রোফোন হাতে নিলেই কেউ দক্ষ সাংবাদিক হয়ে যান না। প্রয়োজন সংবাদ লেখার দক্ষতা, তথ্য যাচাই, সাংবাদিকতার নীতিমালা সম্পর্কে জ্ঞান, আইন সম্পর্কে ধারণা এবং পেশাগত সততা।
ভুল তথ্য ছড়ানো, যাচাই ছাড়া অভিযোগ প্রকাশ, ব্যক্তিগত স্বার্থে সংবাদ ব্যবহার কিংবা কাউকে হয়রানি করা—এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই মানদণ্ড মূলধারা ও মোজো সাংবাদিকতা—উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজন পারস্পারিক সম্মান ও সহযোগিতা,
একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিকের অভিজ্ঞতা যেমন নতুন প্রজন্মের জন্য মূল্যবান, তেমনি একজন দক্ষ মোজো সাংবাদিকের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একে অপরকে হেয় না করে অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সাংবাদিকতার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।
মনে রাখবেন, সংবাদমাধ্যমের ধরন বদলাতে পারে, ক্যামেরার প্রযুক্তি বদলাতে পারে, সংবাদ প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম বদলাতে পারে—কিন্তু সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রয়োজন কখনো শেষ হয় না।
**সাংবাদিকতার পরিচয় ক্যামেরার আকারে নয়, সত্য প্রকাশের সাহসে।
সাংবাদিকতার মর্যাদা প্রতিষ্ঠানের নামে নয়, পেশাগত সততায়।
সাংবাদিকতার শ্রেষ্ঠত্ব পদবি দিয়ে নয়, কাজের মান দিয়ে প্রমাণিত হয়।**
তাই মোজো সাংবাদিকতাকে ছোট করে দেখার আগে তাঁর কাজের মান যাচাই করুন। তিনি কতটা সত্যনিষ্ঠ, কতটা দায়িত্বশীল এবং জনস্বার্থে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছেন—সেই মূল্যায়নই হোক প্রধান বিবেচ্য।
মোজো সাংবাদিকতা কোন প্রতিপক্ষ নয় এটি পরিবর্তিত সময়ের সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা,
আসুন, বিভাজন নয়—দক্ষতা বাড়াই। অবজ্ঞা নয়—যোগ্যতার মূল্যায়ন করি। ব্যক্তিগত অহংকার নয়—সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হই।
কারণ সত্যের পক্ষে যে কলম চলে যে ক্যামেরা সাক্ষ্য দেয় কিংবা যে স্মার্টফোন অন্যায়ের চিত্র তুলে ধরে সাংবাদিকতার প্রকৃত শক্তি সেখানেই,
মোজো_সাংবাদিকতা সাংবাদিকতার_নৈতিকতা জনস্বার্থ, সত্যের, পক্ষে






