মোঃ আব্দুল হক,
বিশেষ প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নওকৈড় গ্রামে প্রায় ৪ বিঘা আয়তনের একটি সরকারি খাসজমির খেলার মাঠে ট্রাক্টর দিয়ে হাল-চাষ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এই মাঠে গ্রামের শিক্ষার্থী, কিশোর ও তরুণেরা ফুটবল-ক্রিকেট খেলে সময় কাটাতো। কিন্তু সেই মাঠ এখন চাষাবাদের আওতায় নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের জনগণের মাঝে।
মাঠটি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী,যুবক, তরুণ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা। একই সঙ্গে মাঠটি খেলার উপযোগী রাখতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায় গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সলপ ইউনিয়নের নওকৈড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠটি সরকারি খাসজমি হওয়া সত্ত্বেও সরকার বংশের কয়েকজন ব্যক্তি চাষাবাদের উদ্দেশ্যে ট্রাক্টর দিয়ে সেখানে হাল-চাষ করেছেন।
এতে মাঠটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় শিক্ষার্থী, ক্রীড়াপ্রেমী ও তরুণদের মাঝে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন জায়গাটি খাস খতিয়ানভুক্ত।
২০১৯ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শওকাত ওসমানের উদ্যোগে সামাজিক নিরাপত্তা ও আবাসন প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের উদ্দেশ্যে সেখানে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেখানে আর গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়নি।
এরপর থেকে গ্রামের যুবসমাজ ও তরুণ কিশোরেরা জায়গাটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলো।
স্থানীয়দের বক্তব্য, মাঠটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি সরকারি খাসজমি। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার অন্যতম স্থান ছিল এই মাঠটি। বিকেল হলেই সেখানে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠতেন বিভিন্ন বয়সী শিশু কিশোরেরা।
তারা আরো বলেন এই মাঠ শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, বরং স্থানীয় তরুণ, কিশোর, যুবকদের শরীরচর্চা, সামাজিক বন্ধন ও খেলাধুলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ মাঠটিতে ট্রাক্টর দিয়ে হাল-চাষ করা হলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী সরকার বংশের হেকমত আলী সরকার, আল-আমিন সরকার, নূর মোহাম্মদ সরকার, ওমর আলী সরকার, হারান সরকার ও তোফাজ্জল সরকার মাঠটিতে চাষাবাদের উদ্দেশ্যে হাল-চাষ করেছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা মাঠটি রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
স্থানীয়ব্যক্তিবর্গ এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের দাবি, মাঠটি সরকারি খাসজমি হওয়ায় এর প্রকৃত অবস্থা ও ব্যবহারের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি মাঠটির জমির শ্রেণি, সরকারি নথিপত্র এবং দখলসংক্রান্ত বিষয় যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁদের মতে, গ্রামের শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে মাঠটি উন্মুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, মাঠটি চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যতে খেলাধুলার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই মাঠটি রক্ষা এবং সরকারি জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
নওকৈড় গ্রামের এই মাঠ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা আরো বলেন সরকারি খাসজমির প্রকৃত অবস্থা যাচাই এবং মাঠটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন গ্রামের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ রায়হানুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয় সম্পর্কে আমি এখন পর্যন্ত অবগত না। আমি এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আপনাদেরকে জানাবো।






