, ,

সম্পদের নেশায় ঘাতক নিজ পরিবার: প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের ষড়যন্ত্রে প্রাণ গেল স্বামীর, মৌলভীবাজারে মামলা দায়ের

নিউজটি শেয়ার করুন

সম্পদের চরম লোভ আর পারিবারিক কোন্দলের বলি হতে হলো এক নিরপরাধ স্বামীকে। প্রথম স্ত্রী ও নিজ সন্তানের নির্মম চক্রান্ত এবং বিষাক্ত ষড়যন্ত্রে তিলে তিলে প্রাণ হারালেন সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। দ্বিতীয় বিয়ে করা ও প্রচুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির দিকে চোখ পরায় তাকে পরিকল্পিতভাবে নিঃশেষ করে দেওয়ার এই লোমহর্ষক চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারে।

ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মৃত সিরাজুল ইসলামের মা ছালেহা বেগম (৭৯) বাদী হয়ে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে/সংশ্লিষ্ট থানায় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার মূল বিবরণ ও আসামিদের পরিচয়
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী ছালেহা বেগম (৭৯) (সাং- চিন্তামনি, ৩নং কামালপুর ইউপি, ডাক- কামালপুর বাজার ৩২০০, থানা ও জেলা- মৌলভীবাজার) অভিযোগ করেন যে, তার ছেলে সিরাজুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে:

১নং আসামি: মনোয়ারা খানম (৪০) [মৃত সিরাজুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী]

২নং আসামি: হাসান আল মামুন সাকিব (২২) [মৃত সিরাজুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীর সন্তান]

(উভয়ের ঠিকানা: সাং- চিন্তামনি, ৩নং কামালপুর ইউপি, থানা ও জেলা- মৌলভীবাজার)

ক্ষোভ ও বিষাক্ত ষড়যন্ত্রের নেপথ্য
অনুসন্ধান ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সিরাজুল ইসলাম পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে প্রবাসী (লন্ডন)। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনাটি প্রথম স্ত্রী মনোয়ারা বেগম এবং তার সন্তান হাসান আল মামুন সাকিব কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না।

দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই আসামিরা সিরাজুল ইসলামের ওপর প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। মূলতঃ সিরাজুল ইসলামের মালিকানাধীন প্রচুর ধন-সম্পত্তি একচ্ছত্রভাবে আত্মসাৎ করার তীব্র লোভ গ্রাস করে আসামিদের। সম্পত্তির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নিতে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান মিলে সিরাজুল ইসলামকে দীর্ঘ দিন ধরে নির্যাতন করে তিলে তিলে নিঃশেষ করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করে।

নিঃশেষ করার সুপরিকল্পিত নীল নকশা
স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলামের বিপুল সম্পত্তি হস্তগত করতে মনোয়ারা খানম ও তার ছেলে সাকিব তাকে ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্যে রাখে। একপর্যায়ে ঘাতক চক্রের এই ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতন ও বিষাক্ত পরিবেশের শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারান সিরাজুল ইসলাম। সন্তান ও স্ত্রীর রূপ ধরে থাকা ঘাতকদের এই নৃশংস আচরণে হতবাক স্থানীয় সচেতন মহল।

বিচার চান বৃদ্ধা মা
৭৯ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাতা ছালেহা বেগম অশ্রুসিক্ত চোখে জানান, “আমার ছেলেকে তারা সম্পত্তির লোভে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছে। যে সন্তান এবং স্ত্রী রক্ষা করার কথা, তারাই হলো আমার ছেলের ঘাতক। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমি শুধু আমার ছেলে সিরাজুল হত্যার বিচার চাই।”

এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিচারিক তদন্তের দিকে নজর রাখছে পুরো এলাকাবাসী। সম্পদের মোহে নিজের রক্ত ও সম্পর্কের এই বিভৎস রূপ সমাজে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।