কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানব পাচারকারী দালালচক্র। শীতের শুরুতে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শামলাপুর, জাহাজপুরা, নোয়াখালীপাড়া ও আশপাশের উপকূল থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে অনিশ্চিত যাত্রায় পা দিচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।
ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, সক্রিয় দালালচক্র:
মানব পাচারকারীরা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বিদেশে ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষকে সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে। দুর্বল ইঞ্জিনের ট্রলার ও কাঠের নৌকায় দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা হওয়ায় ডুবে যাওয়া, নিখোঁজ কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
সমুদ্রপথে আটক হওয়া ব্যক্তিদের প্রতারণার শিকার হিসেবে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা না হওয়ায় অনেকেই পুনরায় একই যাত্রায় যুক্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ এহেশান উদ্দীন বলেন—সমুদ্রপথে অবৈধ বিদেশ যাত্রা রোধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। নিয়মিত টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। দালালচক্রকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করছি—জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন পথে আর না যেতে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহেদ নূর বলেন—মানব পাচার একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। দালালচক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনভাবে অবৈধ সমুদ্রযাত্রায় যারা যুক্ত হন, তাদেরও সতর্ক করছি—এটি জীবনঘাতী এবং আইনবিরোধী।
সচেতন মহলের দাবি:
স্থানীয় সচেতন জনগোষ্ঠীর দাবি-শুধু দালাল নয়, যাত্রীরাও যখন জেনে শুনে টাকা দিয়ে যাত্রা করে, তখন উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নইলে মানব পাচার বন্ধ হবে না।


