কক্সবাজারের টেকনাফ সাবরাংয়ে বিজিবি’র অভিযানে ৪ মানবপাচারকারী আটক, ৮ রোহিঙ্গা ভিকটিম উদ্ধার হয়েছে।
১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং দিবাগত রাতে টেকনাফ বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
এসময় বিজিবি’র’ উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অনেকে পালিয়ে গেলে ও ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। তারা হলো- আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) ও সাহারা খাতুন (৬২)।আটককৃতরা সবাই সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার বাসিন্দা। পলাতক আসামির মধ্যে আছেন একই এলাকার আব্দুল মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০)।
অভিযানে আটজন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তৎমধ্যে ছয়জন নারী এবং দুই শিশু। তারা সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
উদ্ধারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবিকে বলেন , পাচারকারীদের সহযোগীরা তাঁদের উচ্চ বেতনের চাকরি, সহজে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আয়ের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের প্রলোভন দেখায়। পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারী চক্র তাঁদের বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে আটকে রাখে এবং সাগর পথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিত।
বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে পাচারের পথ কঠিন হয়ে পড়ায় চক্রটি এখন লোকালয় ব্যবহার করছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারীদের সক্রিয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া আটজনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছেন। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান পিএসসি আরও বলেন, মানব পাচার সংঘবদ্ধ অপরাধ। সীমান্ত এলাকায় পাহাড় থেকে সমুদ্র—কোথাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ জায়গা থাকতে দেওয়া হবে না। পাচার প্রতিরোধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


