সাবেক সড়ক প্রকৌশলী মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় গড়ে ওঠা ‘কাদের চক্র’ সরকার পরিবর্তনের এক বছর পরও সড়ক ও জনপথ বিভাগে (সওজ) অব্যাহত রয়েছে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। ৫ই আগস্ট ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংস্কারের নামে উল্টো চলছে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক অনিয়ম। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে, গত ১৫ বছরে সড়ক প্রকল্পে ৫০,৮৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, যার ২৩-৪০% টেন্ডার ও কনস্ট্রাকশনের কারণে। এর মূলে রয়েছে তিনস্তরের সিন্ডিকেট: বদলি বাণিজ্য, অর্থপাচার এবং ঘুষ সংগ্রহ।
সিন্ডিকেটের প্রধান চরিত্রসমূহ এবং কর্মকাণ্ড:
বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানকে চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যান্য সদস্য: মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ (ম্যাক আজাদ, সড়ক গবেষণাগার পরিচালক), বিকাশ চন্দ্র দাস (পরিচিতি নং ০০০৩৮২), অমিত কুমার চক্রবর্তী (পরিচিতি নং ৬০২২১২) বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা, রানা প্রিয় বড়ুয়া, সৈয়দ আসলাম আলী (জয়দেবপুর, দেবগ্রাম, বুলতা, মদনপুর সড়ক (ঢাকা বাইপাস ৪ লেন উন্নতি করন প্রকল্প পরিচালক)। প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, ৫ আগস্টের পর ৩০ জন কর্মকর্তাকে ট্রেনিং ও উচ্চশিক্ষার নামে বিদেশে পাঠিয়ে শেখ পরিবার, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কাদেরের বিপুল অবৈধ অর্থ পাচার করা হয়েছে। বেনাপোল বর্ডার দিয়ে ভারতে অর্থ পাচারে আসলাম আলীর ভূমিকা ছিল মুখ্য।
শুদ্ধি অভিয়ান ও ঘুষের জাল: জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ শুদ্ধি অভিযানের নামে ঠিকাদারদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। অস্বীকৃত ঠিকাদারদের কালো তালিকায় ভুক্ত করে চাপ দেওয়া হয়েছে, যখন পছন্দের ঠিকাদাররা টাকা দিয়ে রেহাই পেয়েছে। ঘুষের অংশ কাদেরের স্ত্রী ইশরাতুন নেছা, তাঁর ভাতিজা শাওন এবং সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে বণ্টিত হয়েছে। দুদকের তদন্তে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মনির পাঠানের দুর্নীতিতে ম্যাক আজাদের নাম এসেছে, যিনি তদন্তকালে চাপ দিয়ে তদন্তকারীকে অপসারণের চেষ্টা করেন।
জুলাই বিপ্লবের নেপথ্যে অপরাধ: মহাখালী সেতু ভবন, ঢাকা সড়ক বিভাগ, বনানী এক্সপ্রেসওয়ে টোল প্লাজা সহ স্থাপনায় আগুন ও ভাঙচুরের পিছনে কাদেরের নির্দেশ এবং সিন্ডিকেটের অর্থায়ন ছিল বলে অভিযোগ। তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ এই নাশকতা চালায়, কিন্তু মঈনুলের বাসভবন ৫০ মিটার রেডিয়াসে অক্ষত ছিল। রমজান-ঈদে কৃত্রিম জনদুঃখ সৃষ্টির পরিকল্পনাও ফুটে উঠেছে।
কর্মকর্তা-ঠিকাদারদের ক্ষোভ: বিভাগের কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, “পদায়নে রাজনীতি চলছে, যোগ্যতা নয়। এতে রাস্তা মেরামত ব্যাহত।” টিআইবি সুপারিশ করেছে স্বচ্ছ টেন্ডার এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ। সরকারের সংস্কার সত্ত্বেও সড়কে ‘আওয়ামী প্রেতাত্মা’র ছায়া অটুট।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ (ম্যাক আজাদ, সড়ক গবেষণাগার পরিচালক), বিকাশ চন্দ্র দাস (পরিচিতি নং ০০০৩৮২), অমিত কুমার চক্রবর্তী (পরিচিতি নং ৬০২২১২) বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা, রানা প্রিয় বড়ুয়া, সৈয়দ আসলাম আলী (জয়দেবপুর, দেবগ্রাম, বুলতা, মদনপুর সড়ক (ঢাকা বাইপাস ৪ লেন উন্নতি করন প্রকল্প পরিচালক) এর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী পর্বে চক্রের কেন্দ্রবিন্দু সৈয়দ মঈনুল হাসানের অপকর্ম নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।







