ইমারত পরিদর্শক মো. মালেক ও অথরাইজড অফিসারের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন মরকুন মৌজার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের টিএনটি মোল্লার গ্যারেজ এলাকায় অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা ও জাতীয় দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রায় ৩০ দিন পরও নির্মাণকাজ বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটির মালিক হালিম। অভিযোগ রয়েছে, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (গাউক) অনুমোদিত নকশা ও প্রচলিত নির্মাণবিধি অনুসরণ না করেই ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সংবাদ প্রকাশের সময়ও ভবনটির নির্মাণকাজ চলমান ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নোটিশের পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। ইতোমধ্যে ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে ভবনমালিক হালিমের স্ত্রী নাজমা আক্তার বলেন, “আমাদের কাজ যে বন্ধ করছে, তার মাধ্যমেই আমরা কাজ চালু করেছি।” তাঁর এমন বক্তব্যের পর গাউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইমারত পরিদর্শক মো. মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে নোটিশ জারির পরও কীভাবে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু নোটিশ প্রদান করেই দায়িত্ব শেষ করলে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ইমারত পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট অথরাইজড অফিসারের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, নোটিশ দেওয়ার পরও নির্মাণকাজ চলতে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, গাউকের নোটিশ জারির পরও কীভাবে ভবনটির নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে? কার অনুমতি বা সহযোগিতায় নির্মাণকাজ চলছে? এ ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক লেনদেন কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসী আরও বলেন, অনুমোদিত নকশা অমান্য করে ভবন নির্মাণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নগর পরিকল্পনা, জননিরাপত্তা ও আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ভবনটির অনুমোদিত নকশা যাচাই, নির্মাণকাজের বৈধতা পরীক্ষা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।







