, ,

ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আব্দুর রহিম:

নিউজটি শেয়ার করুন

পদোন্নতি আটকাতে ছড়ানো হচ্ছে সাবেক কর্মকর্তার তথ্যের কপি-পেস্ট সংবাদ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অতিরিক্ত পরিচালক ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসা এই কর্মকর্তার সামনে পদোন্নতি বাঁধাগ্ৰস্ত করতেই সংবাদমাধ্যমে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার অবস্থান নেওয়ার কারণে একটি নির্দিষ্ট মহল তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়। সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মারাত্মক তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। অনুসন্ধান ও সূত্রের দাবি, ইতোপূর্বে বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক পরিচালক মোঃ শাহজাহানকে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের (যেমন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর ‘আমার বার্তা ডটকম’-এর প্রতিবেদন) তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই হুবহু কপি-পেস্ট করে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদের প্রধান প্রধান অসঙ্গতিগুলো হলো:
ভুল পারিবারিক পরিচয়ের সংযোগ: প্রতিবেদনে ‘লিমা তাবাসসুম’ নামক যে নারীকে আব্দুর রহিমের স্ত্রী হিসেবে দাবি করা হয়েছে, তিনি মূলত সাবেক পরিচালক শাহজাহান সাহেবের সহধর্মিণী। আব্দুর রহিমের সাথে তাঁর কোনো পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই।
আর্থিক ও সম্পত্তি বিবরণীর হুবহু অনুলিপি: সাবেক পরিচালক শাহজাহানের রিপোর্টে উল্লেখিত আর্থিক বিবরণী (টিপি-১৩৫, এমপি-১২ ইত্যাদি) এবং সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার সম্পত্তির পরিমাণ হুবহু কপি করে আব্দুর রহিমের নামে জড়িয়ে প্রকাশ করা হয়েছে, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
বিআইডব্লিউটিএ’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, “একজন অতিরিক্ত পরিচালকের প্রকৃত দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার কতটুকু, সংবাদ প্রকাশের আগে তা খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। বাৎসরিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বরাদ্দ কত তা যাচাই না করে এবং সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়াই গোপনে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কোনো অভিযোগ থাকলে তা অপপ্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত।”
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন নিউজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মোঃ আব্দুর রহিম। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন,
“কর্মজীবনে সবসময় ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি। সামনে আমার পদোন্নতি বানচাল করতেই স্বার্থান্বেষী মহল সাংবাদিক ভাইদের বিভ্রান্ত করে এসব মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। সাংবাদিকতা সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি দায়িত্বশীল মাধ্যম। সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমার অনুরোধ—কোনো মহলবিশেষের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ না করে, তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করুন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে তিনি সর্বদাই স্বাগত জানান। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করলে শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্মানই ক্ষুণ্ন হয় না, বরং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।