, ,

শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান দিবস উদযাপিত হবে বাংলাদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান দিবস উদযাপিত হবে বাংলাদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে।

আগামীকাল শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর মহা তিরোধান দিবস। বাংলাদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন মঠ মন্দিরে ধর্মীয় উপাসনা,পূজা পার্বণ ও উৎসব উদযাপন হবে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে বারদী আশ্রমে তাহার এই তিথি উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক কার্যক্রমের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ।তাছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে না না বিধ মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাহার এই পবিত্র তিরোধান দিবস উদযাপন হবে।

শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী (১৭৩০–১৮৯০) উপমহাদেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে পরিচিত। ভক্তদের কাছে তিনি “বাবা লোকনাথ” নামে সুপরিচিত।জন্ম ও শৈশব তিনি ১৭৩০ সালের ৩১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।জন্মস্থান ছিল বর্তমান কাঁকড়া কচুয়া।পিতার নাম ছিল রামকানাই ঘোষাল এবং মাতার নাম কমলা দেবী।

সন্ন্যাস জীবন
অল্প বয়সেই তিনি গৃহত্যাগ করে গুরু ভগবান গাঙ্গুলী-এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।দীর্ঘ সময় কঠোর তপস্যা, যোগসাধনা ও ব্রহ্মচর্য পালন করেন।জনশ্রুতি অনুযায়ী তিনি ভারত, নেপাল, তিব্বত ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছিলেন।

বারদী আশ্রম
বারদী আশ্রম তাঁর জীবনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত স্থান। জীবনের শেষ পর্বে তিনি এখানে অবস্থান করেন এবং অসংখ্য ভক্তকে আধ্যাত্মিক উপদেশ দেন।

প্রধান বাণী
বাবা লোকনাথের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাণী:

“রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়বে, আমাকে স্মরণ করবে; আমিই রক্ষা করব।”

ভক্তরা বিশ্বাস করেন, তিনি মানবসেবা, সত্যবাদিতা, আত্মসংযম এবং ঈশ্বরভক্তির শিক্ষা দিয়েছেন।

মহাসমাধি
১৮৯০ সালের ১ জুন তিনি মহাসমাধি গ্রহণ করেন।মহাপ্রয়াণকালে তাঁর বয়স প্রায় ১৬০ বছর বলে ভক্তমহলে প্রচলিত থাকলে ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্ন মত রয়েছে।

বর্তমান গুরুত্ব
বাংলাদেশ ও ভারতের বহু স্থানে তাঁর মন্দির ও আশ্রম রয়েছে।প্রতি বছর তাঁর তিরোধান ও আবির্ভাব তিথিতে বিশেষ পূজা, ধর্মসভা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়।বিশেষ করে বারদী আশ্রম আন্তর্জাতিক তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে।
বাবা লোকনাথের জীবনকে ভক্তরা ত্যাগ, সেবা, করুণা ও আধ্যাত্মিক সাধনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করেন।