নাটোরের লালপুরে এক তরুণীকে (২৩) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— লালপুরের ৬ রাস্তার মোড় মন্ডলপাড়ার মো. আশিক (২২), জৌতদৈবগী গ্রামের মো. শাকিল ইসলাম বাঁধন (২০) এবং একই গ্রামের মো. কাজল (২২)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে মোবাইল ফোনে উপজেলার ৬ রাস্তার মোড় এলাকার ২২ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে বিজয়পুর গুচ্ছগ্রামের ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৩ অক্টোবর তারা লালপুরের গ্রিন ভ্যালি পার্কে ঘোরাঘুরি শেষে অটোরিকশায় করে লালপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠ এলাকায় যান।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই যুবক তার দুই বন্ধুর সহযোগিতায় কলেজ মাঠের পূর্ব-দক্ষিণ পাশের একটি ফাঁকা বাড়ির কক্ষে নিয়ে তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে তার দুই সহযোগীও পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় অভিযুক্তদের একজন নিজের মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভুক্তভোগীকে অটোরিকশায় একা বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।পরদিন রোববার দুপুরে ধারণকৃত ভিডিওটি ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী তরুণী বিষয়টি তার এক প্রতিবেশী স্বজনকে জানালে পরিবারের সদস্যরা লালপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে হেফাজতে নেয়।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী তরুণীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”







