মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ২ নং উত্তরভাগ ইউনিয়নে ‘দূররে সামাদ রহমান উচ্চ বিদ্যালয়’ ভোটকেন্দ্রটি পুনঃবহালের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বৃহত্তর নিজগাঁও এলাকাবাসী। গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) স্থানীয় ভোটার, সচেতন নাগরিক ও প্রবীণ ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার আলোকে গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে উত্তরভাগ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ২,৭৭০ জন ভোটারের সুবিধার্থে দূররে সামাদ রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে (স্মারক নং- ১৭.০৭.৫৮০০.০০০.৪৪.০০১.২৬-৩০১) কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই কেন্দ্রটি আকস্মিক বাতিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় ভোটারদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। ভোটারদের দুর্ভোগ ও ভৌগোলিক বাস্তবতা ।
বক্তারা জানান, বাতিলকৃত কেন্দ্রটির বদলে ভোটারদের পুনর্নির্ধারিত কেন্দ্র ‘পানিশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লালাপুর’-এ যেতে হবে, যা এলাকা থেকে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দীর্ঘ পথ হেঁটে যাতায়াত করা প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী মা-বোনদের জন্য প্রায় অসম্ভব।
তাছাড়া, পানিশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৩৩২ জন। একই স্থানে দুটি পৃথক ভবনে নিজগাঁও এলাকার ভোটারদের ভাগ করে দুটি আলাদা কেন্দ্রের নামকরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। একটি কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভোটারের চাপের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক বয়স্ক ভোটার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অনেকেই ভোটদান থেকে বঞ্চিত হন।
দাবি ও বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রেরণ
অবস্থানগত ও পারিপার্শ্বিক দিক থেকে দূর-রে সামাদ রহমান উচ্চ বিদ্যালয়টি অত্যন্ত সুবিধাজনক ও নিরাপদ স্থানে অবস্থিত। তাই কেন্দ্রটির ভৌগোলিক সুবিধাদি সরেজমিনে পুনঃযাচাই করে ভোটকেন্দ্রটি অবিলম্বে বহালের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বৃহত্তর নিজগাঁও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক, রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। অবিলম্বে এই দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বক্তারা।







