, ,

রংপুর সদর উপজেলায় তীব্র সারের সংকট দাম বেশি দিলে সার মিলে টিএসপি আঠারো থেকে দুই হাজার

নিউজটি শেয়ার করুন

রংপুর সদর উপজেলায় সার সংকটে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় চাষাবাদ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। মূলত টিএসপি সার নিয়েই বেশি বেকায়দায় পড়েছেন তারা। ডিলাররা বলছেন, তারা কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করছেন। সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছে উপজেলা কৃষি দপ্তরও।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, উপজেলায় রবি ফসল আবাদের শুরুতেই দেখা দিয়েছে সারের সংকট। বিশেষত টিএসপি সার পাওয়াই যাচ্ছে না। যে কৃষকের টিএসপি প্রয়োজন ১০০ কেজি, তাঁকে দেওয়া হচ্ছে ১০ কেজি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সার সংকটের এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
খলেয়া দীঘলটারি গ্রামের আতিকুল বলেন, আমি এবার বিশ বিঘা জমিতে সরিষ আলুও ভুট্টার আবাদ করেছি।কিন্তু দুঃখের বিষয় একাধিক বার উপসহাকারি কৃষি কর্মকর্তাকে সার বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলি কিন্তু তিনি আজ পর্যন্ত আমাকে কোন সার ব্যবস্থা করে দেননি এক পযায়ে এই প্রতিবেদক উক্ত উপসহাকারিকে শাহিনুর ইসলাম কে ফোন দিলে তিনি স্থানীয় তন্ময় ও সুমন নামের দুই জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে দীঘলটারি দোলায় তার সঙ্গে সাক্ষাত করেন সেখানে তিনি সার না পাওয়ার বিষয়টি উক্ত উপসহাকারী স্বীকার করেন। এরপার কথা হয় রেজাউল করিম নামের এক প্রভাষকের সঙ্গে তিনি বলেন প্রায় সময় আমাদেন এলাকার ডিলাররা দোকান বন্ধ রাখে। তাদের কাছে সার তো পাওয়া যায় না । ১৮০০-২০০০ টাকা দিলে টিএসপি (মরক্কো)সার তারাই আবার ব্যবস্থা করে দেয় ।নুনি টারির কৃষক মানিক চন্দ্র রায় বলেন সুমন নামের ডিলারকে আঠারো থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে সার নিয়ে টিএসপি গেছি।এছাড়াও ডিএপি সার ১২৫০ টাকা নিয়েছে ।ননি টারির আরেক কৃষক তুহিন বলেন সারের দাম বেশি হওয়ায় জমি ৫-৭ একর জমি চাষাবাদ কম করেছি। বিসিআইসি ডিলার সুমনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন আপনার যদি কোন কথা থাকে তাহলে উপসহাকারি কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন ।এই বলে মুঠোফোনটি কেটে দেয় চাহিদা অনুযায়ী সার না পেলে আমার জমি অনাবাদি রাখতে হবে। মন্ডল পারার মোতালেব বলেন, আমি টিএসপি সার না পেয়ে ঘুরে এসেছি।।উপজেলার দীঘলটারীগ্রামের কামাল বলেন, আমি সার ডিলার জাহাঈীর ডিলারদের কাছে সার আনতে গেলে আমাকে টিএসপি সার দেওয়া হয়নি। টিএসপি শেষ হয়ে গেছে বলে ডিলার ছেলে তন্ময় জানিয়েছেন। খলেয়া লালচাদ পুর গ্রামের আনোয়ার বলেন টিএসপি সার আনতে গেলে ডিলাররা ১০ কেজির বেশি দিচ্ছেন না। আমি চার বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করব। সারের অভাবে আবাদ করতে পারছি না। গ্রামের হোসেন শেখ বলেন, আমি সাত বিঘা জমিতে সরিষা ও সবজির আবাদ করব। কিন্তু ডিএপি ও পটাশ সার পাওয়া গেলেও টিএসপি সার পাচ্ছি না। অথচ আমার বেশি দরকার টিএসপি। কিন্তু এই সার ১০ কেজির বেশি দিচ্ছে না। এটি না হলে রবি ফসল আবাদ করতে পারছি না। এ রকম অনেক কৃষক টিএসপি সার না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সারের সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৩৫০ টাকা। সমপরিমাণ পটাশ এক হাজার এবং ডিএপির এক হাজার ৫০ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেন, টিএসপির চাহিদা বেশি। এ সুযোগে অনেক ডিলার টিএসপি সার বস্তাপ্রতি ৩০০-৫০০ বেশি টাকা নিয়ে কিছু ধনী কৃষকদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ কারণেই সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ কৃষকের পক্ষে এভাবে বেশি দাম দিয়ে সার কেনা সম্ভব নয়। এই কৃষকরা বলছেন, সব সময়ই টিএসপির সংকট দেখা দেয়। এ জন্য ধনী কৃষকরা ইরি-বোরো চাষের জন্য বেশি দাম দিয়ে এখনই টিএসপি কিনে রাখছেন।
উপজেলার বিসিআইসি সার ডিলাররা টিএসপি সংকটের কথা অস্বীকার করেছেন। খলেয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার সুমন বলেন, এ ইউনিয়নে এ বছর রবি ফসল আবাদ বেশি হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু কৃষক ইরি-বোরো ধান আবাদ করার জন্য অগ্রিম কিনে রাখায় টিএসপি সারের সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, বরাদ্দ বেশি এলে কৃষকদের সার পেতে কোনো সমস্যা হবে না।।

মমিপুর ইউিনিয়নেরসাব-ডিলার শাহিন বলেন, আমার কাছে কোনো কৃষক সার নিতে এসে খালি হাতে ফেরত যাননি। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু কিছু কৃষক সার নিয়েও অস্বীকার করছেন।
আরেফিন বিনতে আজিজ বলেন এ মাসে ইউরিয়া ৫৪৩ মেট্রিক টন টিএসপি ২২০ মেট্রিক টন ও ডিএপি ৮৮৫ মেট্রিক টন এম ওপি ৪৪২ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ।আশা করি সারের চাহিদা কমে যাবে । তবে কোন আভিযোগ থাকলে চাষি সহ অফিসে আসেন । উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার বলেন, এ উপজেলায় চলতি বছর ৯ হাজার ৬১ হেক্টর জমিতে সরিষা, ১৭ হেক্টরে
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। তবে টিএসপির পরিবর্তে ডিএপি সার বেশি দেওয়া হচ্ছে। কোনো ডিলার কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার না দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।