যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে অবস্থিত শার্শা উপজেলার ব্যস্ততম এলাকা বাগআঁচড়া বাজারে মহাসড়কের উভয়পাশে ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং মামামাল রেখে দখল করে রেখেছে অসাধু ব্যবসায়ী ও অবৈধ স্থাপনা মালিকরা। চরম দুর্ভোগে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন, পথচারী এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। চরম ভোগান্তিতে লাখলাখ জনসাধারণ। উচ্ছেদের ব্যাপারে যশোর সড়ক ও জনপথ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ব্যস্ততম বাগআঁচড়া বাজারে অবৈধ স্থাপনার কারণে আশানুরূপ উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। এখানে নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক। অবৈধ স্থাপনার জন্য বিদ্যুতের খু্ঁটি গুলো দেওয়া হয়েছে রাস্তার ফুটপথের মধ্যস্থানে। পথচারীদের চলাচলের জন্য নেই কোন আলাদা ফুটপথ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মালামাল রেখে অবৈধ দখলে নিয়েছে মহাসড়কের দুইপাশে পথচারীদের জন্য চলাচলের জায়গাটুকুও। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকা রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করছে নারী শিশু বৃদ্ধ সহ পথচারীরা। এজন্য সবসময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাজার হাজার পথচারী ও যানবাহন চালককে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, যেকোন মুহূর্তে আবারো ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো বড়ধরণের দুর্ঘটনা।
পার্শ্ববর্তী ৩টি উপজেলার দুই শতাধিক গ্রামের লাখলাখ জনসাধারণ শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকুরী, ব্যবসা-বাণিজ্য, মালামাল ক্রয়-বিক্রয়, ঢাকা সহ দেশের সকল জেলায় যাতায়াত ও নানাবিধ প্রয়োজনে প্রতিদিন সকাল থেকে সারারাত অবধি চলাচল করেন বাগআঁচড়া বাজারে। অত্রাঞ্চলের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং স্বনামধন্য ১৪টি বিদ্যাপীঠ (২টি প্রাইমারী স্কুল, ৩টি কিন্ডারগার্ডেন, ৫টি মাদ্রাসা, ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২টি কলেজ) বাগআঁচড়ায় মহাসড়কের আশেপাশে অবস্থিত। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্র প্রতিষ্ঠান গুলোতে যাতায়াত করেন হাজার হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী যানবাহন এবং সাতক্ষীরা হতে যশোর-খুলনা-রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সহ সকল দূরপাল্লার পরিবহণ সার্বক্ষণিক চলাচল করে এই মহাসড়কে। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গের সর্বোবৃহৎ সাতমাইল পশুহাট অত্র এলাকায় মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার পশুবাহী ট্রাক ও আলমসাধুর কারণে যানজট লেগে থাকে। দক্ষিণবঙ্গের সর্বোবৃহৎ বেলতলা পাইকারি ফল বাজারটিও মহাসড়কের উপর বহুবছর ধরে চলমান। আম ও অন্যান্য ফল ব্যবসায়ীরা ফুটপথ দখল করে ব্যবসা করায় ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট লেগে থাকে মহাসড়কের উপর। ছোটবড় দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে, মাঝেমধ্যে মারাত্মক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। অত্র ২টি বাজারের পাইকারি ক্রেতারা পশু ও ফল কিনে নিয়ে যায় সারাদেশে। বাগআঁচড়ায় প্রায়শই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারীদের প্রাণ গেলেও যশোর সড়ক ও জনপথ সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরের মধ্যেই এক মর্মান্তিক ট্রাক-ট্রলি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত এবং ৮ জন মারাত্মক আহত হয়। স্কুলে যাওয়ার সময় রাস্তা সংকীর্ণতার কারণে মোটরসাইকেল-ট্রাক দুর্ঘটনায় ২ জন শিশু শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। বাগআঁচড়া বেলতলা আম বাজারে ফুটপথ দখলে থাকায় কভারভ্যানের চাকায় পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই একজন পথচারী নিহত এবং একজন মারাত্মক আহত হয়। একজন নারী রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় দূরপাল্লার পরিবহণে পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সর্বশেষ গত ৩ দিন আগে একটি ট্রাকের ধাক্কায় একজন ভ্যানচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রতিনিয়ত ছোটবড় দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছে বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহী সহ পথচারীরা।
বৃহৎ জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে অত্রাঞ্চলের শান্তিকামী জনসাধারণ ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পথচারীরা অবিলম্বে উক্ত মহাসড়কের দুইপাশের অবৈধ স্থাপনা সমূহ উচ্ছেদ ও ফুটপথ দখলমুক্ত করে যানবাহন এবং সর্বসাধারণের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানিয়েছেন যশোর জেলা প্রশাসক মহোদয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।
এ বিষয়ে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব গোলাম কিবরিয়া জানান, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপথ দখলমুক্ত করার ব্যাপারে শীঘ্রই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।





