, ,

মানি লন্ডারিং মামলায় জামিন পেলেন ‘সাদিক অ্যাগ্রো’ চেয়ারম্যান ইমরান

নিউজটি শেয়ার করুন

মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত প্রতিষ্ঠান ‘সাদিক অ্যাগ্রো’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেন জামিন পেয়েছেন। ‘ছাগল–কাণ্ড’ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা এই ব্যবসায়ীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার ইমরানের জামিন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করেন বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এর ফলে তার জামিনে মুক্তির আইনি বাধা আপাতত কাটল।
আদালতে যা বলা হয় ইমরানের পক্ষে শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে বলেন, মামলায় ১৩৩ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ১ কোটি টাকার লেনদেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকার বিষয়টিও জামিন আবেদনে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়।
শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ ও অভিযোগপত্রের অঙ্কে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। দীর্ঘদিন কারাভোগ এবং মামলার বাস্তবতা বিবেচনায় আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন।
অন্যদিকে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান নজরুল বলেন, মানি লন্ডারিং মামলায় ইমরানের জামিন বিষয়ে জারি করা রুল শুনানি শেষে আদালত তা অ্যাবসলিউট করেছেন। অর্থাৎ, আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। তবে এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
‘ছাগল–কাণ্ডে’ আলোচনায় আসেন ইমরান ২০২৪ সালের কোরবানির ঈদে ‘সাদিক অ্যাগ্রো’ থেকে ১৫ লাখ টাকায় ‘উচ্চবংশীয়’ একটি ছাগল কেনার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম নেয়। ছাগলটির ক্রেতা ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তৎকালীন কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান, যিনি ইফাত নামেও পরিচিত।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা, আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। সেই সূত্র ধরে আলোচনায় আসে ‘সাদিক অ্যাগ্রো’ এবং এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের নাম।
পরবর্তীতে ইমরানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা হলে তা নতুন মাত্রা পায়। অবশেষে দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করায় মামলাটি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আপিলের প্রস্তুতিতে রাষ্ট্রপক্ষ আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে জামিন পেলেও মামলার আইনি লড়াই এখনই শেষ হচ্ছে না। বরং উচ্চ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপে এই বহুল আলোচিত মামলার গতিপথ নতুন মোড় নিতে পারে।