দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। ফুটবল, ক্রিকেট, স্কোয়াশ, হকি, সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির যে উদ্যোগ এখানে নেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের খেলাধুলার ভবিষ্যৎ বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে বিস্তৃত এই ক্রীড়া কমপ্লেক্স দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। বসুন্ধরা গ্রুপের পরিকল্পনা, আর্থিক সক্ষমতা ও ক্রীড়ার প্রতি অঙ্গীকারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এবিজি স্পোর্টস সিটি শুধু খেলার মাঠ ও স্টেডিয়ামের সমষ্টি নয়; এটি খেলোয়াড় তৈরি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং ক্রীড়াকে তরুণ প্রজন্মের জীবনের অংশ করে তোলার একটি বিস্তৃত উদ্যোগ।
বাংলাদেশে খেলাধুলার প্রতিভা ও মানুষের আগ্রহের অভাব নেই। প্রয়োজন সেই প্রতিভাকে পরিচর্যা করার উপযোগী পরিবেশ, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণসুবিধা, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতা। এবিজি স্পোর্টস সিটিতে বিভিন্ন খেলার জন্য ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব প্রয়োজন পূরণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে করপোরেট বিনিয়োগের একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এত বিস্তৃত পরিসরে বহুমুখী ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য উন্নত সুযোগ তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের সক্ষমতা বাড়ানোর পথও তৈরি হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা, পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটলে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়াব্যবস্থার আরও বিস্তৃত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
১৯৮০-এর দশক থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত বসুন্ধরা গ্রুপ ২০১৯ সাল থেকে এবিজি স্পোর্টস সিটি গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। শুরু থেকেই এর পরিকল্পনায় ছিল দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া উন্নয়ন, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা। ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় খেলার পাশাপাশি অন্যান্য খেলাকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে উদ্যোগটি একটি বহুমাত্রিক ক্রীড়া কেন্দ্রের রূপ নিচ্ছে।
এই ধরনের অবকাঠামো তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে একজন খেলোয়াড় নিজের দক্ষতা যাচাই করতে পারেন, অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন এবং পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। একই সঙ্গে কোচিং, ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা, মাঠ রক্ষণাবেক্ষণ, ফিটনেস প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সহায়ক সেবায় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হয়। ফলে ক্রীড়া অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সুফল মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে বৃহত্তর সমাজ ও অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ থাকে।
এবিজি স্পোর্টস সিটির সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনাগুলোর একটি বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজনের উপযোগী এই ভেন্যু বাংলাদেশের ফুটবল অবকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। জাতীয় স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার সময় কিংস অ্যারেনা কার্যকর বিকল্প ভেন্যু হিসেবে সামনে আসে। এর ফলে দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের জন্য একটি আধুনিক ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির পথও প্রশস্ত হয়েছে।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের হোম ম্যাচ, এএফসি কাপের ম্যাচ এবং দক্ষিণ এশীয় বয়সভিত্তিক নারী ফুটবল প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আয়োজন বাংলাদেশের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। দেশের দর্শকদের সামনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ম্যাচ উপভোগ করার সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্যও আন্তর্জাতিক পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
কিংস অ্যারেনার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর। ব্রাজিলের বিপক্ষে ভারতের ফিফা প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে গত আগস্টে ভেন্যুর সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনার জন্য একটি কারিগরি দল বাংলাদেশে আসে। তারা ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করে। কিংস অ্যারেনার খেলার মাঠ, অনুশীলন গ্রাউন্ড, খেলোয়াড়দের জিম ও পুনরুদ্ধারসুবিধা আন্তর্জাতিক মানের বলে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে প্রশংসা করা হয়। এ ধরনের মূল্যায়ন বাংলাদেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর সক্ষমতা তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক আয়োজনের সম্ভাবনাও বাড়ায়।
একটি আধুনিক ক্রীড়া ভেন্যুর গুরুত্ব শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন, শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো, চোট থেকে পুনরুদ্ধার এবং প্রতিযোগিতার আগে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সমন্বিত সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন। কিংস অ্যারেনায় মাঠ, অনুশীলনব্যবস্থা ও জিমের সমন্বয় সেই প্রয়োজন পূরণের সুযোগ তৈরি করেছে। এসব সুবিধা ধারাবাহিকভাবে কাজে লাগানো গেলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের মান উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করে তোলার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নতুন প্রজন্মের জন্য খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এবিজি স্পোর্টস সিটির কার্যক্রমে পরিবারের অন্য সদস্যরাও যুক্ত রয়েছেন। তাঁর চার ছেলে—সাদাত সোবহান তানভীর, সাফিয়াত সোবহান সানভীর, সায়েম সোবহান আনভীর ও সাফওয়ান সোবহান তাসভীর—ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সংগঠিত করা, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিচিতি বিস্তৃত করা।
এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে ফুটবল সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় খেলাগুলোর একটি হলেও বাংলাদেশে খেলাটি প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি। তাঁর প্রত্যাশা, বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের একাডেমি থেকে ভবিষ্যতে ভালো মানের ফুটবলার উঠে আসবে। অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও ক্রীড়াঙ্গনে বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে এলে দেশের খেলাধুলার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলে তিনি মনে করেন। বাংলাদেশের ফুটবলকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখার স্বপ্নও তাঁর রয়েছে।
এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিভা শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ নিয়োগ, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজন। একটি একাডেমি সেই ধারাবাহিকতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। এবিজি স্পোর্টস সিটিতে একাডেমিভিত্তিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নয়; দেশের ফুটবলে নতুন খেলোয়াড় তৈরির বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে এলে জাতীয় দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের ঘরোয়া ফুটবলেও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আবদুস সাদেক। ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি কালের কণ্ঠে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ মাঠ, স্টেডিয়াম ও বিভিন্ন খেলার অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। বসুন্ধরা কিংসের সাফল্য, ক্রিকেটে গ্রুপটির আগ্রহ, হকির জন্য টার্ফ স্থাপন এবং বাংলাদেশে প্যাডেল টেনিসের প্রসারে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দল গঠন ও পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে এলে দেশের খেলাধুলা আরও সমৃদ্ধ হবে।
আবদুস সাদেকের এই মূল্যায়নে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে। খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতা ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার সমন্বয় প্রয়োজন। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান যখন একাধিক খেলায় অবকাঠামো তৈরি করে, দল গঠন করে এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে, তখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার অনুপ্রেরণা তৈরি হতে পারে। এর ফলে ক্রীড়াঙ্গনে বিনিয়োগের পরিসর বাড়ার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি, বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ও বসুন্ধরা গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ইমরুল হাসান বলেন, চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্রীড়াপ্রীতি সুপরিচিত। তাঁদের লক্ষ্য খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা এবং দেশের পরিচিতি বাড়ানো। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে চেয়ারম্যানের সমর্থন সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর আশাবাদ, এবিজি স্পোর্টস সিটিতে নেওয়া উদ্যোগগুলোর সুফল আগামী কয়েক বছরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও স্পষ্ট হবে।
ইমরুল হাসানের মতে, আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণের ফলে বিভিন্ন খেলায় প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করার সুযোগ রয়েছে এই স্পোর্টস সিটিতে। নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হতে পারে। এ কারণে ক্রীড়া অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সামাজিক গুরুত্বও যথেষ্ট।
২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। পরের বছর ৩ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠটিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ফুটবল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভেন্যুটির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। মাঠটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলে একটি আধুনিক ভেন্যুর প্রয়োজন পূরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অবকাঠামোর কার্যকারিতা আরও বাড়ানো সম্ভব।
ফুটবলের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর এবিজি স্পোর্টস সিটিতে অনাবাসিক ফুটবল একাডেমি চালু করা হয়। এই একাডেমির মাধ্যমে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ডরমিটরি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে আবাসিক একাডেমি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আবাসিক ব্যবস্থা চালু হলে দূরবর্তী এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনার সুযোগ বাড়বে। সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণ, পুষ্টি, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলার উঠে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ক্রিকেটেও এবিজি স্পোর্টস সিটির কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। আন্তর্জাতিক দলের সফরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের খেলাও এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে এবিজি ক্রিকেট নেটওয়ার্ক দল ক্রিকেট লিগে অংশ নেওয়া শুরু করেছে। এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ক্রিকেটারদের অনুশীলন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং দলীয় দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ বিস্তৃত হচ্ছে।
ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জনের জন্য মানসম্মত মাঠের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুশীলনের পর্যাপ্ত সময়, দক্ষ কোচ, বয়সভিত্তিক দল গঠন এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতা। আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করতে পারে। এবিজি স্পোর্টস সিটির ক্রিকেট অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা বাড়ানো গেলে নতুন খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক বিকাশেও অবদান রাখা সম্ভব।
ফুটবল ও ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য খেলাতেও এবিজি স্পোর্টস সিটির কার্যক্রম বিস্তৃত হচ্ছে। সম্প্রতি এখানে আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশসহ ১১টি দেশের খেলোয়াড়েরা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন আয়োজন দেশের খেলোয়াড়দের বিদেশি প্রতিযোগীদের সঙ্গে দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া ভেন্যুগুলোর সক্ষমতা আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। নিয়মিত এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা গেলে স্কোয়াশের মতো তুলনামূলক কম পরিচিত খেলায়ও নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে।
সাত দেশের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক কমব্যাট স্পোর্টস প্রতিযোগিতা জুলকান ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসর ‘জেডএফসি-২: প্রাইড অব বাংলাদেশ’ আয়োজনও এই বহুমুখী কার্যক্রমের অংশ। বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে একই কমপ্লেক্সে জায়গা দেওয়ার ফলে খেলাধুলার পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে। ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় খেলার পাশাপাশি অন্যান্য ডিসিপ্লিনের জন্যও প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা ক্রীড়াঙ্গনের বৈচিত্র্য বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারেও উদ্যোগ নিয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। চলতি মাসে ১০টি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতার পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার আগ্রহ বাড়ানো, দলীয় দক্ষতা বিকাশ এবং নতুন প্রতিভা চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। শিক্ষাজীবনের সঙ্গে ক্রীড়াচর্চার সংযোগ বাড়লে ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় তৈরির ভিত্তিও আরও শক্তিশালী হবে।
হকির জন্য অ্যাস্ট্রোটার্ফ স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি চালু হলে আধুনিক পরিবেশে হকি অনুশীলন ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ বাড়বে। হকির মতো খেলায় মানসম্মত টার্ফের গুরুত্ব অনেক। উন্নত খেলার পৃষ্ঠ, পর্যাপ্ত অনুশীলনের সময় এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। নতুন এই অবকাঠামো ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক হকি ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনাও তৈরি করবে। এর মাধ্যমে দেশের হকি খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ পরিবেশ গড়ে তোলার পথ আরও প্রশস্ত হবে।
বিভিন্ন খেলার জন্য আলাদা অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি ক্রীড়া স্থাপনাগুলোকে দেশের ইতিহাস ও ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবদানের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটির। এর অংশ হিসেবে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম ‘শাহ আলম ক্রিকেট স্টেডিয়াম’, হকি স্টেডিয়ামের নাম ‘আবদুস সাদেক স্টেডিয়াম’ এবং আন্তর্জাতিক মানের সুইমিংপুলের নাম ‘আবদুস সোবহান সুইমিংপুল’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শাহ আলম ও আবদুস সাদেকের নামে ক্রীড়া স্থাপনার নামকরণ দেশের খেলাধুলায় তাঁদের অবদানকে স্মরণ করার সুযোগ তৈরি করবে। ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটানোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে আবদুস সোবহান ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বাবা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একজন। তিনি ভালো সাঁতারু ছিলেন এবং তৎকালীন বেঙ্গল দলের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর নামে সুইমিংপুলের নামকরণের মধ্য দিয়ে তাঁর ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট অতীতকে সম্মান জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাঁতারের মতো খেলায় আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো তৈরি হলে প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও প্রতিভা বিকাশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়। পরিকল্পিতভাবে সুইমিংপুল পরিচালনা, দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ সাঁতারুদের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। ভবিষ্যতে এই অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিস্তৃত হলে দেশের সাঁতারেও নতুন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এবিজি স্পোর্টস সিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় দেশের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাবকে নিয়ে ব্যতিক্রমী ক্রীড়া ও বিনোদন উৎসব আয়োজনের বিষয়টিও রয়েছে। এ ধরনের আয়োজন বাস্তবায়িত হলে ক্রীড়াপ্রেমীদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। ক্লাবভিত্তিক ক্রীড়াচর্চা বাংলাদেশের খেলাধুলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক অবকাঠামো ও নতুন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ক্রীড়াঙ্গনে অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
এবিজি স্পোর্টস সিটির সামগ্রিক উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখানে বিভিন্ন খেলাকে একই ব্যবস্থাপনার আওতায় বিকাশের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি স্কোয়াশ, হকি, সাঁতার এবং কমব্যাট স্পোর্টসের মতো ডিসিপ্লিনকে গুরুত্ব দেওয়ায় খেলাধুলার বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এতে তরুণেরা নিজেদের আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন খেলায় যুক্ত হতে পারবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া ভেন্যু ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগও বাড়বে।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা, দক্ষ কোচ তৈরি, খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। এবিজি স্পোর্টস সিটির মতো বৃহৎ ক্রীড়া কমপ্লেক্স এসব কার্যক্রমের জন্য একটি সমন্বিত ভিত্তি তৈরি করতে পারে। পরিকল্পিত পরিচালনা ও ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলে। নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার পাশাপাশি সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। এ কারণে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামোকে শুধু খেলোয়াড় তৈরির ব্যবস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি সুস্থ ও সক্রিয় প্রজন্ম গড়ে তোলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তরুণদের মাঠমুখী করার সুযোগ বাড়লে মাদকাসক্তি ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রেও খেলাধুলা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোও এই উদ্যোগের আরেকটি সম্ভাবনাময় দিক। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে খেলোয়াড়েরা নিজেদের দক্ষতা উন্নত করতে পারেন এবং পেশাদার পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। একই সঙ্গে কোচ, ফিজিওথেরাপিস্ট, ফিটনেস প্রশিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবস্থাপনা পেশাজীবীদের জন্যও নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়। একটি সুসংগঠিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স তাই খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট পেশার বিকাশেও অবদান রাখতে পারে।
বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের খেলাধুলার উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠান যখন মাঠ নির্মাণের পাশাপাশি দল গঠন, একাডেমি পরিচালনা, প্রতিযোগিতা আয়োজন ও খেলোয়াড়দের বিকাশে বিনিয়োগ করে, তখন ক্রীড়াঙ্গনে একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে ওঠে। এবিজি স্পোর্টস সিটির কার্যক্রম অন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিজস্ব ক্রীড়া উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পৃষ্ঠপোষকতায় উৎসাহিত করতে পারে। এমন অংশগ্রহণ বাড়লে খেলাধুলার জন্য অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগও বিস্তৃত হবে।
বাংলাদেশের ফুটবল, ক্রিকেট, হকি কিংবা অন্য কোনো খেলায় আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা। প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, তাঁদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া, নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করা—এই ধারাবাহিকতার প্রতিটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ। এবিজি স্পোর্টস সিটির অবকাঠামো ও চলমান উদ্যোগ এসব ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ তৈরি করেছে। আগামী দিনে এই সুযোগ কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের বড় অংশ।
সব মিলিয়ে এবিজি স্পোর্টস সিটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজনের সক্ষমতা, ক্রিকেটের জন্য আধুনিক ভেন্যু, ফুটবল একাডেমি, স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা, কমব্যাট স্পোর্টস আয়োজন এবং হকি ও সাঁতারের অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে এর কার্যক্রম বহুমুখী। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নতুন খেলোয়াড় তৈরি, ক্রীড়াচর্চার পরিসর বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
বসুন্ধরা গ্রুপের এই উদ্যোগের তাৎপর্য একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে দেশের খেলাধুলায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও বহুমুখী পৃষ্ঠপোষকতার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে এলে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে। মাঠ থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানোর স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ তৈরির এই প্রচেষ্টা তাই দেশের ক্রীড়ার ভবিষ্যৎ বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা বহন করছে







