মাগুরায় শাকের হোসেন হত্যা এবং রামনগর বাজার এলাকা থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির পৃথক দুটি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন ।
এ দুটি ঘটনায় মামলাভিত্তিক মোট ১৩জনের গ্রেপ্তারের হিসাব থাকলেও একই ব্যক্তির নাম দুই মামলায় থাকায় স্বতন্ত্র গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা ১১ জন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মাগুরা পুলিশ সুপার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য জানান।
মোট ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকা থেকে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি স্বর্ণের চালান বহনকারী মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। পরে তাঁকে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ১৫০ ভরি তেজাবি স্বর্ণের বার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা, এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা নম্বর ৬৩, ধারা ১৭০/৩৯৫/৩৯৭ এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের মো. মজিবর রহমান (৪৮)।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজন হলেন—মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মণ্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) এবং মো. মারুফ হোসেন (৪৪)। পুলিশ আরো জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি তেজাবি কাটা স্বর্ণের বার, যার ওজন ৯ ভরি ৭ আনা, উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার মডেলের দুটি মোটরসাইকেল এবং সিলভার রঙের একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। শাকের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জন অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের কাউন্টারের ভেতরে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শাকের হোসেন (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন্নাহার রুমা বাদী হয়ে ২১ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা নম্বর ৪৯, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা এবং ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) এবং বশির আলী (৩৫)। এ মামলায় উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে বুলেট, খালি কার্তুজ এবং পাঁচটি স্বর্ণের বার। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ৫১ ভরি ৯ আনা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দুই মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেপ্তার মো. গোলাম জাহিদ বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুটি পৃথক ঘটনায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ডাকাতি এবং বাস টার্মিনালে গুলিতে হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের এই অভিযান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।







