মহান বিপ্লবী ও ভিয়েতনামের স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা হো চি মিনের ১৩৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সেমিনার, আলোচনা সভা ও গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভাবগম্ভীর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।
গত শনিবার (১৬ মে ২০২৬) সকাল ১০টায় কেরানীগঞ্জের অধ্যাপক হামিদুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে Bangladesh Group for Study of Comrade Ho Chi Minh’s Works।“Ho Chi Minh’s Thought on Great National Unity in Building and Defending the Socialist Republic of Vietnam” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা মহান নেতা হো চি মিনের সংগ্রামী জীবন, নেতৃত্ব, জাতীয় ঐক্য, রাষ্ট্র গঠন এবং মানবমুক্তির দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের মান্যবর রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মি. নাগিয়ন মান চুঙ্গ।এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন তাপস, সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক দক্ষিণ আঞ্চল; আল হাজ নুরুল আমিন, সম্পাদক, দৈনিক বরিশাল বার্তা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুজন আহমেদ, সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মহান বিপ্লবী হো চি মিনের ১৩৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ড. এম জাহাঙ্গীর খান সম্পাদিত “আফ্রো-লেটিনা-এশিয়া কবিতা” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের মান্যবর রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মি. নাগিয়ন মান চুঙ্গ, সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলামসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অতিথিবৃন্দ।মোড়ক উন্মোচন পর্বে বক্তারা বলেন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে মহান নেতা হো চি মিনের আদর্শ, সংগ্রাম ও মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।বক্তারা বলেন, মহান নেতা হো চি মিন শুধু ভিয়েতনামের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা নন, তিনি বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানবমুক্তির প্রতীক। তাঁর আদর্শ, আত্মত্যাগ ও নেতৃত্ব আজও বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ভিয়েতনামের স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যে ঐতিহাসিক ও আদর্শিক মিল রয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদারে এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিরা মহান বিপ্লবী হো চি মিনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ, নেতৃত্ব ও সংগ্রামী ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সফল আয়োজন, প্রাণবন্ত আলোচনা এবং অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।







