, ,

মনোহরদীতে রাজনৈতিক প্রভাবে কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, নারীকে শ্লীলতাহানি ও হামলা: আদালতে মামলা

নিউজটি শেয়ার করুন

নরসিংদীর মনোহরদীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল এবং তাতে বাধা দেওয়ায় এক নারীসহ সাক্ষীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানি ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ মে মনোহরদী বাজারস্থ বাইপাস রোডের ‘শাহীন প্লাজা’র দ্বিতীয় তলায় এই ঘটনা ঘটে।
​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পপি আক্তার বাদী হয়ে নরসিংদীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (মনোহরদী সি.আর মামলা নং- ২১৮/২০২৬ইং) দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন—স্থানীয় বিএনপি নেতা মো: আমিনুর রহমান সরকার দোলন (৫০), আ: জব্বার (৩০) এবং মো: মোক্তার উদ্দিন তালুকদার (৪৮)। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
​ক্ষমতার দাপটে জবরদখল ও নৃশংসতা
​মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী পপি আক্তারের মালিকানাধীন শাহীন প্লাজার দ্বিতীয় তলার মূল্যবান জায়গাটি আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় পদের প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছিল। ঘটনার দিন দুপুর অনুমান ১২:৩০ ঘটিকায় আসামিরা বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত সম্পত্তি দখল করতে আসে।
​বাদী পপি আক্তার আসামিদের এই অবৈধ কার্যকলাপে বাধা দিলে ১নং আসামি আমিনুর রহমান সরকার দোলন ক্ষমতার দম্ভোক্তি প্রকাশ করে বাদীর ওপর চড়াও হন। তিনি বাদীর চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং শ্লীলতাহানি ঘটান। এ সময় ২নং আসামি আ: জব্বার লোহার রড দিয়ে বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করতে গেলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পিঠে লাগে এবং তিনি গুরুতর জখম হন। ৩নং আসামি মোক্তার উদ্দিন তালুকদারসহ অন্যান্যরা বাদীকে এলোপাতাড়ি লাথি ও কিলঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে।
​স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট
​মারধরের একপর্যায়ে ১নং আসামি আমিনুর রহমান সরকার দোলন বাদীর গলা থেকে আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন। এছাড়া ২নং আসামি আ: জব্বার বাদীর শ্লীলতাহানি করে তার কাছে থাকা নগদ ৫২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
​সাক্ষীদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি
​বাদীর চিৎকার শুনে ১নং সাক্ষী সুমাইয়া এবং ২নং সাক্ষী সাদিয়াসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে আসামিরা তাদের ওপরও চড়াও হয় এবং মারধর করে। ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে আসামিরা বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করার সময় প্রকাশ্যে হুমকি দেয় যে, এই ঘটনা নিয়ে পরবর্তীতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিলে বাদী ও সাক্ষীদের প্রাণনাশ করা হবে।