স্বদেশ ডেস্কঃ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর মাধ্যমে ‘‘কৃষক পর্যায়ে বিএডিসি’র বীজ সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প’’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মেয়াদকাল সেপ্টেম্বর ২০২৩ হতে জুন ২০২৭ পর্যন্ত।
বিএডিসি’র মাধ্যমে উৎপাদিত মানসম্পন্ন বীজ কৃষক পর্যায়ে অত্যন্ত সমাদৃত। মানসম্পন্ন বীজ ব্যবহারে ফসলের ফলন প্রায় ১৫-২০% বৃদ্ধি পায় মর্মে এক গবেষণায় দেখা গেছে এবং বলা যায় যে, রাষ্ট্রীয়/সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএডিসিই বীজ উৎপাদনপূর্বক কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করে থাকে। ফলে বিদ্যমান বীজ সরবরাহ কার্যক্রমকে আরো জোরদারকরণ ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বর্ণিত প্রকল্পটি ৬৪টি জেলার ৪৮৮টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পটির মূল কার্যক্রম হলো ৭৫টি বীজ সংরক্ষণগার নির্মাণ, ২১টি উপজেলায় বীজের বাজার ব্যবস্থাপনা যাচাই ও কৌশল নির্ধারণ, ৪৩০০ জন বীজ ডিলারদের প্রশিক্ষণ, বীজ গবেষণাগারের সরঞ্জামাদি ক্রয় ইত্যাদি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও ডিপিপি এর সংস্থান অনুযায়ী প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৫টি বীজ সংরক্ষণগার নির্মাণ কাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে। অচিরই সেগুলোর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
উক্ত প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপর অদ্য ১০ জুন ২০২৬ তারিখে ‘‘Reviewing Seed Market Management System and Determination of Strategic Plan of Crop Seed Distribution for Seed Marketing Through Marketing Channel’’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণসহ সদর দপ্তরস্থ বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুল ইসলাম । কর্মশালায় কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন ড. উজ্জ্বল কুমার নাথ। ড. উজ্জ্বল কুমার নাথ কী-নোট পেপার উপস্থাপনে বিএডিসি’র বীজ সরবরাহ কার্যক্রমের ওপর একটি সম্যক ধারণা প্রদান করেন। একইসঙ্গে বিদ্যমান বীজ সরবরাহ কার্যক্রম আরো ত্বরান্বিত এবং দ্রুততার সহিত সম্পাদনে চিহ্নিত সীমাবদ্ধতা, সমস্যা ও উত্তরণে সুপারিশ তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএডিসি চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন যে, দেশের সমগ্র কৃষি ব্যবস্থাপনায় বিএডিসি’র ভূমিকা অনবদ্য ও অন্বস্বীকার্য। বিএডিসি ও কৃষি ব্যবস্থাপার অনেকটা যেনে একে অন্যের পরিপূরক। আর এই কষি ব্যবস্থাপনার মূল কারিগর হলো কৃষকরা। কৃষকরাই আমাদের মৌল মানবিক চাহিদার শীর্ষে থাকা খাদ্য চাহিদা পূরণে প্রাণপণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ফলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিএডিসিতে কর্মরত সকলকে নিরলস হয়ে অর্পিত দায়িত্ব সুচারূরূপে সম্পাদন করতে হবে। তিনি আরো বলেন যে, সারা দেশের কৃষকের জন্য ফসলওয়ারি প্রকৃত চাহিদা সুনির্দিষ্ট করতে হবে এবং সে অনুযায়ী মৌসুমভিত্তিক বীজ উৎপাদনে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বীজ উৎপাদনের পর বীজের শুদ্ধতা নিশ্চিতে সকল ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন , সম্প্রতি বীজ উৎপাদন থেকে কৃষক পর্যায়ে বীজ সরবরাহ পর্যন্ত জারিকৃত পরিপত্রে বর্ণিত সমুদয় বিষয়গুলো পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে। আর এতেই বিএডিসি’র বীজের শুদ্ধতা ও গুণগতমান পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত হবে।
বীজ উৎপাদনের পর কৃষক পর্যায়ে ডিলারদের মাধ্যমে বীজ সরবরাহের বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ডিলারদের নিকট বীজ সরবরাহের পর ডিলারদের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে বীজ বিক্রির বিষয়টি আরো কঠোরভাবে মনিটরিং ও তদারকি করতে হবে।
ডিলাররা যাতে কোনরূপ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে এবং সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা ও কর্মকৌশল অনুযায়ী দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার পরিচয় দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন বিএডিসি ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান।
সুত্রঃবিএডিসি







