বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি)-এর পক্ষ থেকে জানানো যাচ্ছে যে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, সাংগঠনিক অনিয়ম এবং বিচারাধীন একাধিক গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলীয় কার্যবিধি ও সংবিধান অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
দলের চেয়ারম্যান মো: সোহেল রানা জানান, মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালনকালে মো: তহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও দলীয় সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ তদন্তে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এছাড়াও, যথাযথ সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দলীয় সদস্যদের বহিষ্কার করার বিষয়টিও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে।
দুই মাসব্যাপী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এবং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে মো: তহিদুল ইসলামকে বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি)-এর মহাসচিব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসচিব পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগামী ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এছাড়াও, দলীয় পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, মো: তহিদুল ইসলাম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগত কারণে যেসব বহিষ্কার আদেশ প্রদান করেছিলেন এবং দলীয় নামে যেসব অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেছিলেন, সেগুলোর অধিকাংশই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ফলে উক্ত সকল বহিষ্কার আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মামলা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, দলীয় সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো: নুরুল হককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। তবে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। একই সঙ্গে দলীয় রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত হাইকোর্টে রিট আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য তাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, দলীয় সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত অনলাইন ভার্চুয়াল কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ড. নাজমুল করিমকে আগামী ০৭ মে ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি)-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। দল আশা প্রকাশ করছে যে, তিনি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দলীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করবেন।
বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি) সবসময় ন্যায়, সত্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়।







