নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক পরিচয়দানকারী রুবি আক্তারের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ের ফাঁদে ফেলে এক ইউনিয়ন পরিষদ সচিবকে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়সাল আবেদীনের পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফয়সাল আবেদীনের স্ত্রী কুমকুম সুলতানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফয়সাল আবেদীনের বোন শাকিলা জাহানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে কুমকুম সুলতানা অভিযোগ করেন, দুই সন্তানের জননী রুবি আক্তার নাগরিক সেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের একপর্যায়ে তাঁর স্বামী ফয়সাল আবেদীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে কৌশলে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে আমার স্বামীকে বিয়ে করতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর প্রথমে জলদিতে একটি সাবলেট বাসায় এবং পরে উপজেলার সাধনপুর এলাকায় জমি কিনে নতুন বাড়িতে তাকে রাখা হয়।”
কুমকুম সুলতানার আরও অভিযোগ, বিয়ের পর রুবি আক্তার তাঁকে ডিভোর্স দিতে এবং তাঁদের তিন সন্তানকে ভরণপোষণ না দেওয়ার জন্য ফয়সাল আবেদীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “পরবর্তীতে আমার স্বামী জানতে পারেন, তিনি বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছেন। এ কারণে বাধ্য হয়ে তাকে তালাক দেওয়া হয় এবং স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণও প্রদান করা হয়। কিন্তু তালাকের পরও তিনি আমার স্বামীকে হত্যা, চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে ফয়সাল আবেদীনের বোন শাকিলা জাহান অভিযোগ করে বলেন, “রুবি আক্তার একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিভিন্ন পুরুষকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করা তার অভ্যাস। আমার ভাইকেও ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “তালাকের পরও বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের মাধ্যমে আমার ভাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা নিজেদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই প্রশাসনের কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবি আক্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।







