বিদেশে লোক পাঠানো, অর্থ আদায় নারী নির্যাতন ও ক্ষমতা অপব্যবহারের, অভিযোগ
৩ লাখ টাকা নিয়ে ৮ লাখ পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ, মামলা তুলে নিতে হুমকির দাবি ভুক্তভোগীর
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের বেলভূজা গ্রামে ঢাকা এসবির এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে সুদের কারবার, বিদেশে লোক পাঠানো, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মারধর, শারীরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী মোছাঃ আকলিমা বিবি দাবি করেছেন, পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি এসবির কনস্টেবল মোঃ রুহুল আমিন বিপি নং (৮৬০৫০৯৮৫৭৯) তার থেকে ৩ লাখ টাকা ধার নেন। পরে আসল ও সুদ বাবদ মোট ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও তার কাছে নতুন করে সুদের টাকা দাবি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, টাকা পরিশোধের পরও রুহুল আমিন ও তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে তাকে চাপ ও হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আকলিমা বিবি জানান, এসব ঘটনায় তিনি বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি আদালতে দুটি মামলা করেছেন। এ ছাড়া গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান এবং পুলিশ সুপার, বগুড়ার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
তার অভিযোগ, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কনস্টেবল রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য তাকে টেলিফোনে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
আকলিমার দাবি, মামলা তুলে না নিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে,প্রতি নিহিত,
অভিযোগে তিনি রুহুল আমিনের স্ত্রী রুনা, শ্যালক,আবু সাঈদ,শশুর নজরুল,ভাতিজা,তামিম, তানভীরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আকলিমা বিবির অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে রুহুল আমিন তার আপন ফুপা ও ফুপাতো ভাইদের বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় দুটি হত্যা মামলা করিয়েছেন।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলা দুটির একটি মামলা নম্বর ৩৪, তারিখ ৯ মার্চ ২০২৫ এবং অপরটি মামলা নম্বর ২৫, তারিখ ৬ জুলাই ২০২৫।
ভুক্তভোগীর দাবি, মামলাগুলোতে মোঃ আব্দুর রহিম ও মোঃ আলাউদ্দিন,আঃ রশিদ, মাছুম রানা,এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ দবির উদ্দিন মন্ডল কে মামলার বাদী চিনেন না, এবং তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা করা হয়নি,
মামলায় উল্লেখিত কয়েকজন ব্যক্তিকে তারা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তার অভিযোগ, পুলিশ সদস্য রুহুল আমিন নিজের পরিচয় ব্যবহার করে এবং মামলার খরচ বহনের আশ্বাস দিয়ে তাদের বাদী হতে চাপ দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে একটি তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেছেন আকলিমা বিবি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনের স্মারক নম্বর—আরও-৬/পিএস অ্যান্ড আইআই/মতিঝিল-২৭/২০২৫/১২৫, তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২৫। ৩.৯৪ শতাংশ সম্পত্তি কেন্দ্র করে,দুটি মামলায় ফাঁসানো হয়েছে,
কনস্টেবল রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—সরকারি চাকরির পাশাপাশি এলাকায় সুদের কারবার পরিচালনা। চাকরি নিয়ে দেওয়া, বিদেশে লোক পাঠানো।
আকলিমা বিবির অভিযোগ, রুহুল আমিন, তার স্ত্রী রুনা, শ্বশুর নজরুল, শ্যালক আবু সাঈদ, ভাতিজা, তানভীর তামিম এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য মিলে দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আর রেয়েছে পুলিশ সদস্য রুহুল আমিনের সকল মামলার তদবির কারক, আবুল কাশেম,ও ইসমাইল হোসেন বেলাল, পিতা আকবর আলী গ্রাম বিহার পশ্চিম পাড়া, শিবগঞ্জ বগুড়া,
আকলিমার দাবি, আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের কাছ থেকে চেক ও স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে উচ্চহারে সুদ আদায় করা হয়। এমনকি বিদেশে লোক পাঠানো এবং সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেনের সঙ্গেও তারা জড়িত—এমন অভিযোগও করেছেন তিনি।
আকলিমা বিবির আরও অভিযোগ, পুলিশ সদস্য রুহুল আমিন বিভিন্ন সময় নিজের পুলিশ পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে বিরোধপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন। এমনকি তার আপন ফুপা ও ফুপাতো ভাইদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন নামে-বেনামে অভিযোগ, ছবি ও ভিডিও তৈরি করে তাদের হয়রানি বা ফাঁসানোর চেষ্টা প্রতি নিহিত করে যাচ্ছে, বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর জাতির কাছে বলেন —একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে যদি সুদের কারবার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন এবং মামলা প্রভাবিত করার মতো অভিযোগ ওঠে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে কি না। তা অজানা,
অভিযোগের বিষয়ে কনস্টেবল মোঃ রুহুল আমিনের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর জবাব, ব্যাখ্যা বা তার অবস্থান এই প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বগুড়া শিবগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সুদের কারবার, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী আকলিমা বিবি অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।







