, ,

বগুড়ায় এলপিজি বাজারে অস্থিরতা,, সংকট নিরসনে মতবিনিময় সভা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ববাজারে জাহাজ সংকট এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে বগুড়ায় এলপিজি বাজারে অস্থিরতা ও সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে জেলা এলপিজি কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

তবে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা সুযোগ বুঝে বেশী দামে গ্যাস বিক্রি করছে বলে ব্যাবসায়ীরা জানান। বগুড়ায় এলপিজি গ্যাসের সংকট নিরসনের বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের করতোয়া সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভাজেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন আয়োজিত এলপিজি ব্যবস্থাপনা ও বাজার পরিস্থিতি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায়
সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ হোসেন, বগুড়া জেলা এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাফিকুর রহমান সাফি, বিভিন্ন এলপিজি কোম্পানির বিভাগীয় প্রধান, ডিলার এবং রিটেইলার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। সভায় এলপিজি কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং বিগত সময়ে ব্যাংকিং বিধিনিষেধের কারণে যথাসময়ে এলসি ঋণপত্র খোলা সম্ভব হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী আগের বছরের শেষ দিকেই আমদানির তালিকা নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু ব্যাংকিং জটিলতা ও লোন রিকভারি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অনেক আমদানিকারক নির্ধারিত সময়ে এলসি করতে পারেননি। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও লোহিত সাগরে শিপিং ঝুঁকির কারণে জাহাজের ইনস্যুরেন্স ও প্রিমিয়াম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সময়মতো জাহাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।জানা গেছে, বগুড়ার বাজারে ডেল্টা, বেঙ্গলসহ কয়েকটি কোম্পানির সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত থাকলেও ফ্রেশ, ওমেরা, বিএম ও যমুনা গ্যাসের সরবরাহ চালু রয়েছে। তবে কিছু কিছু কোম্পানি সরকারি বা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নির্ধারিত রেটের বাইরে গিয়ে পরিবহন খরচ বা অন্যান্য অজুহাতে অতিরিক্ত মূল্যে ক্যাশ মেমো ইস্যু না করেই গ্যাস বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করেন মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। ভোক্তা পর্যায়ে বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে বিক্রি হওয়ার কারণ হিসেবে অনেক ব্যবসায়ী ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলার পর্যায়ের অতিরিক্ত ক্যারিং কস্ট এবং ইনসেনটিভ বন্ধ থাকার কথা উল্লেখ করেন। তবে প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, সরকারি মূল্যের বাইরে কোনোভাবেই অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন বা ক্যাশ মেমো ছাড়া কেনাবেচা গ্রহণযোগ্য নয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ হোসেন সভায় বলেন, সরকার বা বিইআরসি যে দর নির্ধারণ করে দেবে, মাঠপর্যায়ে সেটিই বাস্তবায়ন করা জেলা প্রশাসনের মূল দায়িত্ব। মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা ক্যাশ মেমো ছাড়া অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সুব্রত ঘোষ
বগুড়া