মোঃ শামছুল আলম: প্রিপেইড মিটারে অতিরিক্ত ও লুকানো চার্জ কর্তন, ব্যালেন্স দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া, রিচার্জে জটিলতা এবং মিটার ক্রয় ও টেম্পারিংয়ে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতি ও নানা হয়রানির শিকার হওয়ার খবর নিয়মিত গণমাধ্যমে উঠে আসে।

প্রিপেইড মিটারের প্রধান অনিয়ম ও সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্থিক অনিয়ম ও বিভিন্ন চার্জ কাটা। মিটার ভাড়া ও চার্জ নিয়ে সরকারি ঘোষণা বা অব্যাহতির আলোচনা সত্ত্বেও বাস্তবে অনেক সময় প্রতি মাসে মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট নিয়মিত কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত কর্তনের অভিযোগও রয়েছে। বিইআরসি (BERC)-এর নির্ধারিত নিয়মের বাইরে বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জরুরি ব্যালেন্স ও রিচার্জ জটিলতা: কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই খুব দ্রুত ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়া এবং ছুটির দিনে বা রাতে রিচার্জের ব্যালেন্স শেষ হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকট তৈরি হয়।
কারিগরি ও সেবামূলক সমস্যা: ডিজিটাল পদ্ধতি ও কোডের জটিলতার কারণে রিচার্জ কোড বা টোকেন ইনপুট দিতে গিয়ে ভুল হলে কিংবা মিটার লক হয়ে গেলে তা আনলক করতে গ্রাহকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
মিটারের ত্রুটি: অনেক মিটারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ দেখানোর কারিগরি ত্রুটি বা সেন্সর সমস্যা দেখা দেয়। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানান, ‘এটা সার্ভার সমস্যা, স্যার। আমাদের কিছু করার নেই।’
কিছুদিন পূর্বে আমি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পর ব্যালেন্স দেখিয়েছে ১৪৪ টাকা। অর্থাৎ আমার অ্যাকাউন্টে ১৪৪ টাকা জমা ছিল। কিন্তু পরের দিন সকালে আমি দেখতে পেলাম, আমার ১৪৪ টাকা কেটে নিয়ে পুনরায় আমার কাছে ২৪৫ টাকা ৬৩ পয়সা বকেয়া হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, এক রাতে অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬ টাকা আমার বিল কেটে নেওয়া হয়েছে। আমি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর আমাকে উত্তর দিয়েছে, ‘এটা সার্ভার সমস্যা, আমাদের কিছু করার নেই।’
এভাবেই গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো সার্ভার সমস্যার দোহাই দিয়ে হাজার কোটি টাকা গ্রাহকদের অজান্তেই নিয়ে যাচ্ছে—এ ব্যাপারে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই বললেই চলে।
প্রশাসনিক ও ক্রয় দুর্নীতি: এরপর রয়েছে প্রশাসনিক ও ক্রয় দুর্নীতির অভিযোগ। কেনাকাটায় অনিয়ম: স্মার্ট প্রিপেইড মিটার আমদানি ও কেনাকাটা এবং টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক কর্তৃক অভিযান পরিচালনার ঘটনাও রয়েছে।
অতিরিক্ত চার্জের বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে এসব অনিয়ম রোধ করা সম্ভব।







