জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন মজুরি কাঠামোর আহ্বান
দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি বাণিজ্যে পোশাক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এ খাতের শ্রমিকেরা এখনো জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি থেকে বঞ্চিত—এমন দাবি করেছে বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রমিক নেতা অরবিন্দু বেপারী বিন্দু এক বিবৃতিতে পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। বুধবার, ৭ অক্টোবর দেওয়া ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান বাজারদর, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শ্রমিকদের বাস্তব আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা জরুরি।
তিনি বলেন, পোশাক খাত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অথচ এই খাতের প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমিকেরা জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি পাচ্ছেন না। তাই শ্রমিকদের জীবনমান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী মজুরি কাঠামো করা প্রয়োজন।
সরকার চলতি অক্টোবর মাসে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে—এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অরবিন্দু বেপারী বিন্দু। একই সঙ্গে তিনি মজুরি বোর্ড গঠনের পর সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
তার মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় এমন একটি মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা দরকার, যাতে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে শ্রমিকেরা সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন এবং একই সঙ্গে পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতাও বজায় থাকে।
মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে আসছে উল্লেখ করে শ্রমিক নেতা বলেন, ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তবে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো তৃতীয় পক্ষ যাতে পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীলতা, নাশকতা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মালিকপক্ষকেও শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার কথা বলেন।
অরবিন্দু বেপারী বিন্দুর মতে, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং পোশাকশিল্পের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক—এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্বশীল সংলাপ প্রয়োজন। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিনামা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ফলে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের জন্য ৩০ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরির দাবি সামনে আসায় মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, শিল্পের সক্ষমতা এবং খাতটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা—এই বিষয়গুলো কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।







