যেখানে ভূমি সংক্রান্ত সকল সেবা দ্রুত সেবাগ্রহীতাদের মাঝে পৌঁছে দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এর উল্টো চিত্র বিরাজ করছে পরশুরাম উপজেলা ভূমি অফিসে।
এই উপজেলা ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতা জনসাধারণকে হয়রানির দীর্ঘদিনের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। আবার দিন দিন দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও বেড়েই চলছে মারাত্মক ভাবে। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে দালালদের প্রভাবের কারণে অসহায় সেবা গ্রহীতারা।
এই অফিসের দূর্নীতি ও দালালদের বিরুদ্ধে বার বার সংবাদ প্রকাশের পর ও দূর্নীতি তো কমেইনি বরং বেড়েছে দালালদের কতৃত্বসহ আনাগোনা। অফিস কতৃপক্ষ দূর্নীতি ও দালালদের প্রভাবের কাছে অসহায় নাকি তিনি নিজেই তাদের কে প্রশ্রয় দিচ্ছেন একমাত্র তিনিই জানেন। এতে আবার পিছিয়ে নেই পৌর এবং ইউনিয়ন ভুমি অফিস ও।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে এবং অফিসের লোকদের সঙ্গে ঘুষের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ না হয়ে সেবা নিতে গেলে সেবাগ্রহীতাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এমনকি চাহিদা মতো ঘুষ না দিলে দীর্ঘদিনেও অফিসের টেবিল থেকে নড়ে না ফাইল। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছে উপজেলা ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা জনসাধারণ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জমির খারিজ, ডিসিআর, মিসকেসসহ অন্যান্য জমি সংক্রান্ত সেবা ও সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে আসেন এলাকার জনসাধারণ। এ অফিসে পা রাখলেই নানা সমস্যায় পড়তে হয় সেবাগ্রহীতাদের। সবচেয়ে হয়রানিতে পড়তে হয় ভুমির নামজারি ও মিসকেস নিয়ে।
বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিসের প্রায় সকল কার্যক্রম অনলাইনে। তথ্য মতে, একজন নামজারি গ্রহীতা প্রথমে অনলাইনে আবেদন করবেন। এর পর তার হার্ড কপি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে জমা দিতে হয়। আবার জমি সংক্রান্ত সকল সেবার জন্য নিময় অনুয়ায়ী লিখিত অবেদনও জমা দেওয়া হয়। এর পর শুরু হওয়ার কথা সেই ফাইলের কাজ।
কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, পরশুরাম উপজেলা ভূমি অফিসের উল্টো চিত্র। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে আবেদনের পর ডিসিআর এর জন্য মাত্র ১১০০ টাকা দিলে জমির নামজারি হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই ভূমি অফিসে দালালসহ অফিসে ধাপে ধাপে নিচ থেকে উপরের টেবিল পর্যন্ত প্রতি খারিজে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে।
সেবাগ্রহীতারা অফিসের অভ্যন্তরের ও বাহিরের দালাল ছাড়া আবেদনপত্র জমা দিলে তা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি অফিস ঘুষ ও দালাল সিন্ডিকেটের বাহিরে গেলেই আবেদন বাতিল করাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। অথচ দালালদের চাহিদা মতো অতিরিক্ত টাকা দিলেই তারা অফিসের ভিতরে গেলেই চোখের পলকে সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।
আর ঘুষ না দিলে দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ঘুরে ও ধর্না দিয়েও মেলে না কোনো প্রতিকার। বিশেষ করে, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। ফলে ওই সব লোকজন দালাল এবং অফিসের অসাধু লোকজনের মাধ্যমে গেলেও প্রতিটি ধাপে ধাপে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে নেওয়া হয়। আর এই অতিরিক্ত ঘুষের এক অংশ চলে যায় ভূমি অফিসের বিভিন্নজনের পকেটে।
নাম প্রকাশ না করার দৃঢ় শর্তে উপজেলা এলাকার এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার ক্রয়কৃত প্রায় ৪০ শতক জমি আছে। আনুমানিক ৬ থেকে ৭ মাস আগে ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল প্রক্রিয়া শেষ করে জমিগুলো নামজারির জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করি।
তিনি বলেন ওই সময় আমার ক্রয়কৃত জমির মূল দলিল হারিয়ে যাওয়ার কারণে আবেদনে ফটোকপি দিয়েছিলাম। নামজারির আবেদনে দলিলের ফটোকপি দেওয়ার কারণে ওই আবেদন বাতিল করে সংশ্লিষ্টরা। এর পর গত প্রায় ৩ মাস আগে ক্রয়কৃত জমির দলিলের জাবেদা কপি সংগ্রহ করে নামজারির জন্য আবারও আবেদন করেছি। এর পরেও আমার নামজারি আজ অবধি হয়নি।
তিনি বলেন, এই নামজারির জন্য দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ঘুরে আমি ব্যাপক হয়রানির শিকার হচ্ছি। জমির দলিলের জাবেদা কপি দেওয়ার পরেও কর্মকর্তারা খারিজ করে দেয়নি।
এভাবে শুধু একজন ভুক্তভোগী নন অসংখ্য ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এই ভুমি অফিসের বিরুদ্ধে । কারো নামজারি,কারো মিসকেইস কারো রেকর্ড সংশোধন সহ সব কাজেই ভুমি সেবাপ্রাথীরা কমবেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন , দালালদের বাইরে গিয়ে ভুমি সংক্রান্ত কাজে কোন আবেদন পত্র জমা , তলব সংক্রান্ত কোন কাজ বা মিসকেসের কোন আবেদন জমা দেয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী সেটা বিভিন্ন কারন দেখিয়ে বাদ দিয়ে দেয় অথবা একের পর এক শুরু করে হয়রানি। আজ হবে, কাল হবে, দিবো দিচ্ছি বলে খোঁজার অজুহাতে শুরু হয় গড়িমসি।
এ ব্যাপারে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে পরশুরাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাফায়াত আক্তার নূর বলেন, আমার জানা মতে, অফিসে কোনো দালাল নেই। ঘুষ ও হয়রানি করার কোনো প্রশ্নই আসে না। কারো বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







