২ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা, ৯০৮ কেজি ইলিশ ও ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৩০০ মিটার জাল জব্দ!!
পটুয়াখালী: মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন ও বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন রাখতে পটুয়াখালীতে জোরদার করা হয়েছে সংরক্ষণ অভিযান। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৩০৫টি অভিযান ও ৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে ১১৭টি মামলা দায়ের, ১০১ জন জেলেকে কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
পটুয়াখালী মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এ সময় অবৈধভাবে আহরণ করা ০.৯০৮ মেট্রিক টন বা ৯০৮ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে ১৪.৮৪৩ লাখ মিটার, অর্থাৎ ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৩০০ মিটার অবৈধ জাল।
১৩ দিনে ব্যাপক অভিযান মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ১৩ দিনে মোট ৩০৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে ৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে অনিয়মের দায়ে ১১৭টি মামলা করা হয় এবং ১০১ জন জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি অপরাধের দায়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
জব্দ ৯০৮ কেজি ইলিশ, বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে আহরণ করা ৯০৮ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৩০০ মিটার অবৈধ জাল। বিপুল পরিমাণ জাল জব্দের মধ্য দিয়ে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ প্রতিরোধে মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের তৎপরতার চিত্র উঠে এসেছে।
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারলে ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজনন বৃদ্ধি পায়, যা ভবিষ্যতে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
ইলিশের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্ব : ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং দেশের অর্থনীতি, মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে পরবর্তী সময়ে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার সময় আইন মেনে চলা এবং জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
পটুয়াখালী উপকূলীয় জেলা হওয়ায় এখানকার নদ-নদী ও সামুদ্রিক জলসীমায় ইলিশের বিচরণ এবং আহরণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই মা ইলিশ সংরক্ষণে নিয়মিত নজরদারি, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন মৎস্যসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করতে মৎস্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং মৎস্যজীবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করা এবং বিকল্প জীবিকার সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
পটুয়াখালী মৎস্য অধিদপ্তরের ৮ থেকে ২২ অক্টোবরের অভিযানের পরিসংখ্যানে মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের তৎপরতা ও আইন প্রয়োগের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়েছে। মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা এবং ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে পটুয়াখালী মৎস্য অধিদপ্তর।







