ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব)-এর সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সহ-সভাপতি, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা মরহুম মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় তোপখানা রোডস্থ মুক্তিযোদ্ধা মাখদুমা নার্গিস মিলনায়তনে ইনসাবের উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইনসাবের সভাপতি জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম।
স্মরণসভায় বক্তারা প্রয়াত শ্রমিকনেতা আব্দুর রাজ্জাকের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর স্মৃতিচারণ করেন এবং দেশের নির্মাণ শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তার অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
স্মরণসভায় সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন “প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক কেবল একজন শ্রমিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের নির্মাণ খাতের শ্রম সংস্কার ও নীতি নির্ধারণী লড়াইয়ের পথিকৃৎ। নির্মাণ শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে তার প্রণীত ১২ দফা দাবি নির্মাণ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে এক ঐতিহাসিক দলিল।” তিনি বলেন আব্দুর রাজ্জাক-কে শ্রদ্ধা জানাতে হলে নির্মাণ শ্রমিকদের কল্যাণে তার অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এর সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “দেশের অসংগঠিত নির্মাণ শ্রমিকদের সুসংগঠিত ও একতাবদ্ধ করার পেছনে আব্দুর রাজ্জাকের ভূমিকা অতুলনীয়। তিনি মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। তার আপসহীন মনোভাব, নিখাদ দেশপ্রেম ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনে চিরকাল অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন ‘শ্রমিক অধিকার আদায়ের পাশাপাশি সামাজিকভাবে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় আব্দুর রাজ্জাক অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন-শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেই সমাজ থেকে সব ধরনের শোষণ, নিপীড়ন ও শ্রেণি বৈষম্য বিলুপ্ত হবে।”
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)’র অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন “বর্তমান বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর যে দাবি আব্দুর রাজ্জাক তুলেছিলেন, তা আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে অধিকার আদায়ের আন্দোলন এগিয়ে নিতে হবে।”
স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের জাতীয় শ্রমিক জোট এর সভাপতি আব্দুল কাদের হাওলাদার, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর যুগ্ম সমন্বয়কারী মোঃ নুরুল আমিন, ইনসাবের কার্যকরী সভাপতি মিজানুর রহমান বাবুল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিজুর রহমান আজিজ,, সহ-সভাপতি জালাল আহমেদ, সোহরাব হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ শরীফ মিয়া সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন, শ্রম ও দরকষাকষি সম্পাদক শাহ আলম, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, ক্রীড়া সম্পাদক ইসাফিল ভূঁইয়া, মহিলা সম্পাদক সায়েরা খাতুন, কেন্দ্রীয় নেতা আইয়ুব আলী, নুর আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দপ্তর সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
বক্তারা প্রয়াত নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার অসমাপ্ত সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।






