, ,

নতুন নিকোটিন পণ্যে তরুণদের আকৃষ্ট করার অভিযোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

চটকদার মোড়ক ও ডিজিটাল প্রচারণা বন্ধের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন নতুন স্বাদ, রং, ডিজাইন ও আকর্ষণীয় মোড়কে নিকোটিনজাত পণ্য বাজারজাত করে তরুণদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে এসব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে প্রচারণা বন্ধের দাবি জানিয়েছে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট) ও বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বিএটি)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনলাইন সভায় বক্তারা এ দাবি জানান। সভার মূল বিষয় ছিল—‘নতুন ও চটকদার মোড়কে পুরোনো বিষ; মূল টার্গেট তরুণ প্রজন্ম’।

সংগঠন দুটির বক্তব্য অনুযায়ী, সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকোসহ বিভিন্ন নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের দাবি, এসব পণ্যের সহজলভ্যতা এবং আকর্ষণীয় বিপণন তরুণদের মধ্যে নতুন ধরনের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

‘চটকদার মোড়কে পুরোনো ঝুঁকি’
আলোচনায় বক্তারা বলেন, হিটেড টোব্যাকো, ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও ভেপের মতো পণ্যকে অনেক সময় প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় আধুনিক বা আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এসব পণ্যের মধ্যেও নিকোটিন রয়েছে, যা আসক্তি তৈরি করতে পারে।

তাদের মতে, তরুণদের কাছে এসব পণ্য পৌঁছাতে আকর্ষণীয় মোড়ক, বিভিন্ন ফ্লেভার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে এসব পণ্যের ব্যবহার স্বাভাবিক বা ‘ট্রেন্ডি’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির আহ্বান
সভায় বলা হয়, তরুণদের মধ্যে নিকোটিনজাত নতুন পণ্যের ব্যবহার ঠেকাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব ক্ষেত্রেই সচেতনতা বাড়াতে হবে।

বক্তারা উল্লেখ করেন, নাটক, সিনেমা, বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং অনলাইনভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের প্রচার ও পরোক্ষ উপস্থাপন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের লক্ষ্য করে পরিচালিত বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি সামনে
বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, নিকোটিন শুধু আসক্তিই তৈরি করে না; তরুণ বয়সে এর ব্যবহার ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে নিকোটিনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

তাদের ভাষ্য, নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যকে পুরোনো তামাকপণ্যের তুলনায় নিরাপদ বা ক্ষতিহীন হিসেবে উপস্থাপন করা হলে ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই এসব পণ্যের প্রকৃত ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি।

আইনের কার্যকর প্রয়োগের দাবি
বক্তারা আরও বলেন, সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আলোকে নিকোটিনজাত নতুন পণ্যের বাজারজাতকরণ, বিক্রি ও প্রচারণা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তরুণদের কাছে এসব পণ্যের সহজপ্রাপ্যতা কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সভায় প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম আহমেদ, বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো কন্ট্রোল (বিএনটিটিসি) প্রকল্পের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধি ও ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মিশন বৈদ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

তরুণদের সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের আহ্বান
সভা শেষে বক্তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতি মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মসূচিতে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ জন্য হেলথ প্রোমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের দাবিও জানানো হয়।

সংগঠনগুলোর মূল বক্তব্য হলো—তামাকবিরোধী নীতির পাশাপাশি নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্যের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা এবং তরুণদের লক্ষ্য করে পরিচালিত বিপণন প্রতিরোধ—এই তিন ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তবে এসব দাবি ও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; নিকোটিনজাত নতুন পণ্য নিয়ে নীতিগত বা বাণিজ্যিক অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি, সংশ্লিষ্ট আইন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন।