সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান, স্বস্তি ফিরছে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসানে অবশেষে গজারিয়া থেকে কালিরবাজারস্থ নবনির্মিত নিজস্ব ভবনে পুরোনো দলিল, বালাম বইসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রেকর্ডপত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা পত্রিকায় জনদুর্ভোগ ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে এ স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়।
পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান, জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় রেকর্ডপত্রগুলো নতুন ভবনে নিয়ে আসা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ফুলছড়ি সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নাজমুল হুদা, ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসরাকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
জানা গেছে, ফুলছড়ি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কালিরবাজারে নবনির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হলেও প্রয়োজনীয় পুরোনো দলিল ও বালাম বইসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গজারিয়ার পুরোনো অফিসে আটকে ছিল। ফলে প্রায় সাত থেকে আট মাস ধরে দলিলের জাবেদা ও নকল সরবরাহসহ গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। এতে জমি-জমা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ নিয়ে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা পত্রিকায় বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।
এদিকে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ফুলছড়ি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জামায়াত ও বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। সভায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে দ্রুত সব নথিপত্র কালিরবাজারের নতুন ভবনে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়। ওই সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে নথিপত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে নির্ধারিত দিনেই সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলো।
রেকর্ডপত্র নতুন ভবনে স্থানান্তরের খবরে স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশী ও দলিল লেখকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু হলে দলিলের জাবেদা ও নকল সংগ্রহসহ জমি-জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা স্বাভাবিক হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন সাধারণ মানুষ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রেকর্ডপত্র নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ফলে নথিপত্র সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ আরও সহজ হবে। তবে শুধু রেকর্ডপত্র স্থানান্তরই নয়, দ্রুত সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি সচল করাও এখন জরুরি।
জনস্বার্থে মানুষের সমস্যা, অনিয়ম ও দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখাই গণমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব। ফুলছড়ি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডপত্র স্থানান্তরের এই উদ্যোগ জনস্বার্থে সাংবাদিকতার ইতিবাচক ভূমিকার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
জনদুর্ভোগ নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।







