০৬/০৫/২০২৬ থেকে ০৯/০৫/২০২৬ পর্যন্ত নেপালের পোখারায় অনুষ্ঠিত হয় “সাউথ এশিয়া কনভেনিং”। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত তরুণ প্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণকারীরা কমিউনিটি ভিজিটে যান উপাল্লো আমিনতারা নামের একটি বস্তি এলাকায়, যেখানে অধিকাংশ বাসিন্দা দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ।
কমিউনিটি ভিজিটে গিয়ে প্রতিনিধিরা খুব কাছ থেকে দলিত জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম, সামাজিক বাস্তবতা এবং প্রতিদিনের লড়াই প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান। এলাকাটির বেশিরভাগ মানুষ দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিশেষ করে নারীরা নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহকারী হিসেবে কাজ করে পরিবার চালিয়ে নিচ্ছেন।
সীমিত আয়, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের মধ্যেও তারা সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা, স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার লড়াই সম্পর্কে জানতে পারেন।
এ বিষয়ে আশির্বাদ সংস্থার চেয়ারম্যান শান্তি রামবারি বলেন, “দলিত হরিজন নারীদের জীবন সংগ্রাম শুধুমাত্র বেঁচে থাকার লড়াই নয়, এটি সম্মান, পরিচয়, অধিকার ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম। বছরের পর বছর তারা সমাজের নানা স্তরে অবহেলা, বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, দলিত নারীরা দারিদ্র্য ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সামাজিক উদ্যোগ, কমিউনিটি নেতৃত্ব এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারা বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন।
ভিজিট শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই অভিজ্ঞতা তাদের নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং মানুষের মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তি ও কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করার বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপলব্ধি করেন, ভাষা ও সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও মানুষের সংগ্রাম, বেদনা ও আশার গল্প সবার মধ্যেই এক অদৃশ্য বন্ধন তৈরি করে।







