তেজগাঁও সাব রেজেস্ট্রি অফিস গিলে খাচ্ছে আওয়ামী দোসররা। রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও সাব রেজেস্ট্রি অফিসের একটি শক্তিশালী দালাল চক্রের পাল্লায় পড়ে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ । যাদের সীমাহীন দৌরাত্ম্যে সেবা প্রত্যাশীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এদের খপ্পড়ে পড়ে অনেকে নানা সমস্যায় ভুগছেন। এদের বাইরে এখানে প্রকৃত সেবা মিলছে না। তারা সকল কাজের কাজি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠায় শতভাগ সফল হয়েছে। তাদের সিন্ডিকেটের বাইরে এখানে কোনো ফাইল নড়ে না। হয় না তেমন কোনো কাজ। তারাই যেন সর্বেসর্বা।
সরেজমিন দেখা গেছে, যাদের সরকারি কোনো দাপ্তরিক আদেশ নেই, তাদেরও এজলাসে উঠে সাব রেজিস্ট্রারের পাশে দাঁড়িয়ে দলিল সম্পাদনে সহায়তা করতে! এভাবেই তারা প্রভাব বিস্তার করে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যে প্রভাবশালী কাগজবিহীন আকিব ও তার ভাই নকলনিবস আওলাদ হোসেন। (আকিব-আওলাদ) যাদের কাজ হলো সেবাগ্রহণকারীদের কৌশলে আস্থায় এনে যে কোনো কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে ইচ্ছে মতো অর্থ আদায় করা।
তেজগাঁওয়ের সাব রেজিস্ট্রার আবদুল কাদেরের ইন্ধনে চক্রটি বেপরোয়া। তারা সারাক্ষণ এজলাশের চারপাশ ঘিরে থাকে। যতক্ষণ সাব রেজিস্ট্রার এজলাশে থাকেন, ততক্ষণ চক্রটি বসে থাকে। তারা সেবা গ্রহণকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই নাকি এখানে গিজগিজ করে। পরে আগতদের বুঝিয়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে ফায়দা লোটে।
এই চক্রটির বিরুদ্ধে সিল ও স্বাক্ষর জাল করে দলিল সম্পাদনের মতো ভয়াবহ দুর্নীতি ও নিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সুত্রমতে এরা মূল্যবান বালাম বই ঘষামাজা ও পাতা ছিঁড়ে ফেলার মতো জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত। এসব জালিয়াতি ও কারসাজির মাধ্যমে তারা কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ও সম্পদের মালিক হয়েছে। এই চক্রটি রাজধানীর তেজগাঁও ও মোহাম্মপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসকে নিজেদের অবাধ বাণিজ্যের কারখানায় পরিণত করেছে।
মজার ব্যাপার হলো, চক্রটি বোল পাল্টে সব সরকারের সময়ে তাদের হয়ে যায়। তাদের অপকর্ম জায়েজ করতে ক্ষমতার শক্তি অবাধে ব্যবহার করে। অবৈধভাবে যা কামায় একটা অংশ স্থানীয় পাঁতি নেতাদের পেছনে ব্যয় করে শক্তি প্রদর্শন করে। এসব পাঁতি নেতাদের ফুলিয়েফাঁপিয়ে সাব রেজিস্ট্রারের নজর কাড়ে। উপরি প্রাপ্তির আশায় সাব রেজিস্ট্রার তাদের না ঘাঁটিয়ে বরং নীরবে সয়ে যান।
আর সাব রেজিস্ট্রারকে বাগে পেয়ে তারা এই অফিসকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তির মতো অবাধ ব্যবহারের মাধ্যমে দিনকে রাত আর রাতকে দিন করে ফেলে। বর্তমান সাব রেজিস্ট্রার আবদুর কাদের তাদের কথায় উঠবস করে বলে তারা অনেকটা বেপারোয়া। এতে বালাম বইসহ সরকারের মূল্যবান নথিপত্র বিনষ্ট হচ্ছে ও খোয়া যাচ্ছে। আর সবই বেহাত হচ্ছে এই চক্রটির মাধ্যমে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, এই জালিয়াত চক্রটি যতদিন বহাল থাকবে, ততদিন এটাই চলতেই থাকবে।
এর বাইরে আওলাদ হোসেন অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে ৫ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশ গ্রেফতার করে! এতে আওলাদ হোসেন কয়েক মাস জেলও খাটে। এর বাইরে আরো অনেক মামলার আসামি সে। একই অঙ্গে কত রূপ আওলাদ হোসেন গংয়ের। তার সহকর্মীদের মতে, আওলাদ হোসেন পারে না-এমন কাজ নাকি কমই আছে। ফলে অফিসে তাকে অনেকে সমঝে চলে। তার কথা না শুনলে ইয়াবি দিয়ে ফাঁসানোর হুমকিও নাকি সে প্রায়ই দেয়।
অভিযোগ আছে, আওলাদ হোসেন চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। তেজগাঁও শিল্প এলাকায় তার রয়েছে পাঁচতলা আলিশান বাড়ি। হাতিরঝিল, বাড্ডা ও টঙ্গীতে রয়েছে বাড়ি ও জমি। সিলেটের সুনামগঞ্জে তিন একর জায়গাজুড়ে রয়েছে তার মাছের ঘের। এর বাইরে রয়েছে প্রচুর সম্পদ ও অর্থকড়ি। বড় একটা অংশ নাকি বিদেশে পাচারও করেছে। একাধিক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। যদিও আওলাদ হোসেন এগুলো তার পৈতৃক জায়গা বলে দাবি করে সব অভিযোগ অস্বীকার করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওলাদ হোসেন সব ব্যাপারে ড্যাম কেয়ার। তিনি কাউতে পাত্তা দিচ্ছে না। আইজিআর থেকে শুরু করে জেলা রেজিস্ট্রার কাউকে পরোয়া করছেন না। তার মতে, সাব রেজিস্ট্রারই তার কাছে সবকিছু। তাকে ছাড়া কাউকে হিসাবে ধরতে নারাজ। তার মতে, কিছু করতে হলে সেটা সাব রেজিস্ট্রারকেই করতে হবে। অতএব অন্যদের গণার টাইম নাকি তার নেই। আর সে ভালো করেই জানে, বর্তমান সাব রেজিস্ট্রার তাকে কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না। অপরদিকে এজলাস কক্ষ দখল করে আছে ঐ চক্রটি। এজলাস কক্ষের সামনে সেবাগ্রহীতার দাঁড়াতে পারেন না। টেবিল চেয়ার নিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারীরা দখল করে আছে সেখানে। এজলাস কক্ষে টেবিল চেয়ার নিয়ে বসার ক্ষেত্রেও শক্তি প্রদর্শন করতে হয়। এই শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে বেশী এগিয়ে তিনিই এজলাস কক্ষে বসতে সক্ষম হন। এ ব্যাপারে জেলা রেজিস্ট্রারের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলেও তা কোন কাজে আসেনি। মূলত সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদেরের রহস্যজনক উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততার কারণে ঐ সমস্ত কর্মচারীরা এখন আরও বেপরোয়া।







