জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (JBCCI) আজ (৪ অক্টোবর) বিকেলে হোটেল লেকশোরে তাদের ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) আয়োজন করেছে।
এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের JBCCI-এর সাধারণ সদস্য, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং বিশিষ্ট অতিথিসহ প্রায় ২৪০ জন অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন JBCCI-এর নির্বাহী পরিচালক মিস তাহেরা আহসান।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন JBCCI-এর বিদায়ী সভাপতি জনাব তারেক রফি ভূঁইয়া (জুন)। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করতে JBCCI-এর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
JBCCI-এর বিদায়ী মহাসচিব মিস মারিয়া হাওলাদার এফসিএ (FCA), নভেম্বর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চেম্বারের প্রধান প্রধান কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। তিনি দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং সাধারণ সদস্যদের সুবিধার্থে চেম্বারের নেওয়া বিভিন্ন প্রগতিশীল উদ্যোগের কথা ব্যাখ্যা করেন। বর্তমানে JBCCI-এর সদস্য কোম্পানির সংখ্যা ৩৯১টি, যা গত বছর ছিল ৩৬৯টি। প্রতি বছর সদস্য পদের এই বৃদ্ধি জাপান ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।
JBCCI-এর বিদায়ী যৌথ কোষাধ্যক্ষ জনাব মো. জাহাঙ্গীর আলম শার্কার সিপিএ (CPA), নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন পেশ করেন। তিনি জানান, নানা কর্মসূচি ও কার্যক্রম আয়োজন করা সত্ত্বেও JBCCI এই মেয়াদে টেকসই আর্থিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, JBCCI-এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিচক্ষণতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য নিরীক্ষক (Auditor) হিসেবে “শফিক মিজান রহমান ও অগাস্টিন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস”-কে নিয়োগের প্রস্তাব করেন।
নভেম্বর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে সেমিনার আয়োজন, জাপানি প্রতিনিধি দল আনা, সদস্যদের সুবিধা বাড়াতে বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর, গোলটেবিল আলোচনা, নেটওয়ার্কিং এবং সরকারের সাথে বিভিন্ন বৈঠক করার জন্য অংশগ্রহণকারীরা JBCCI-এর প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। এছাড়া, সভায় JBCCI-এর নতুন সদস্যদের স্বাগত জানানো হয়।
এরপর JBCCI-এর নির্বাচন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব এ বি এম আজিজুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে অক্টোবর ২০২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৮ মেয়াদের জন্য নতুন পরিচালনা পর্ষদের সাথে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন, যারা গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নির্বাচিত হয়েছেন।
নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের তালিকা:
ক্র. নং প্রার্থীর নাম পদবী
১, কাজুইকি কাতাওকা (Kazuiki Kataoka) সভাপতি (President)
২, আবু জামান মো. তারিকুল ইসলাম সহ-সভাপতি ১ (Vice-President 1)
৩, সৈয়দ সামিউল হক সহ-সভাপতি ২ (Vice-President 2)
৪, রবিউল আলম মহাসচিব (Secretary-General)
৫, কেঞ্জি কিমুরা (Kenji Kimura) কোষাধ্যক্ষ (Treasurer)
৬ ,অলিভার কুটজ (Oliver Kutz) যৌথ মহাসচিব (Joint Secretary-General)
৭ ,সৌমিত্র কুমার মুৎসুদ্দী যৌথ কোষাধ্যক্ষ (Joint Treasurer)
৮, তারেক রফি ভূঁইয়া (জুন) পরিচালক (Director)
৯, হিরোয়াকি ওউরা (Hiroaki Oura) পরিচালক (Director)
১০, কবির আহমেদ পরিচালক (Director)
১১, আতসুশি হিরাকুরি (Atsushi Hirakuri) পরিচালক (Director)
১২, এ কে এম আহমেদুল ইসলাম বাবু পরিচালক (Director)
১৩, কেনিচিরো কাওয়ামোতো (Kenichiro Kawamoto) পরিচালক (Director)
১৪, ফারজানাহ চৌধুরী পরিচালক (Director)
১৫, হিরোনোরি ইয়ামনাকা (Hironori Yamanaka) পরিচালক (Director)
১৬, মুদাসসির মুর্তজা মঈন পরিচালক (Director)
সবশেষে তিনি জনাব মানাবু সুগাওয়ারা (Manabu Sugawara) এবং জনাব আবদুল হক-কে বোর্ডের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
নব-নির্বাচিত মহাসচিব জনাব রবিউল আলম এবং নব-নির্বাচিত সভাপতি জনাব কাজুইকি কাতাওকা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা JBCCI-কে বাংলাদেশের আরও প্রাণবন্ত দ্বিপাক্ষিক চেম্বার হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নতুন সভাপতি জনাব কাজুইকি কাতাওকা তার বক্তব্যে বিদায়ী সভাপতি, মহাসচিব, পরিচালনা পর্ষদ এবং সাধারণ সদস্যদের তাদের নেতৃত্বের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। জাপানি কোম্পানিগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করতে বাংলাদেশি সদস্য কোম্পানিগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। আগামী মেয়াদের জন্য তিনি দুটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রতি জাপানের দীর্ঘদিনের অবদানকে আরও তুলে ধরা। দ্বিতীয়ত, সেমিনার ও নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে চেম্বারের প্রায় ৪০০টি সদস্য কোম্পানির জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগানো।
প্রধান অতিথি মহামান্য রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির বক্তব্য:
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের মাননীয় রাষ্ট্রদূত মহামান্য সাইদা শিনিচি (H.E. Mr. Saida Shinichi) JBCCI-এর বিদায়ী নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান এবং নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানান। মাত্র ২০ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ প্রায় ৪০০ সদস্যের চেম্বারে পরিণত হওয়ায় তিনি JBCCI-এর প্রশংসা করেন।
তিনি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। রাষ্ট্রদূত ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য শিল্প বহুমুখীকরণ, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন। তিনি ব্যবসার সাথে রাজনীতির একটি স্বচ্ছ ও টেকসই সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন।
সবশেষে, JBCCI-এর বিদায়ী সহ-সভাপতি হিরোয়াকি ওউরা উপস্থিত অতিথি ও সদস্যদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন (Vote of Thanks) করেন এবং নতুন বোর্ডের জন্য শুভকামনা জানান।






