আওয়ামী লীগের ঘরানার রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা বিপাশা ইয়াসমিনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষক সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ঐক্যজোটের সভাপতি সেলিম ভূঁইয়ার উদ্যোগে তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব—সাংস্কৃতিক সম্পাদিকার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বিপাশা ইয়াসমিন অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার সরাসরি সুপারিশে চাকরি লাভ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী ঘরানার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একাধিক গান তৈরি ও পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি আওয়ামী সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
এছাড়া, বিপাশা ইয়াসমিনের চতুর্থ স্বামী সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম, যিনি ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ লোক। উল্লেখ্য, ওবায়দুল কাদের যখন ডাকসুর বিপি ছিলেন, তখন নজরুল ইসলাম ছাত্রলীগ প্যানেলের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
তবে সময়ের ব্যবধানে সেই একই ব্যক্তি এখন ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে গান করছেন এবং প্রকাশ্যে নিজেকে ‘জুলাই আন্দোলন সমর্থিত’ বলে দাবি করছেন। একসময় বঙ্গবন্ধু ঐক্যজোট প্যানেলের সাংস্কৃতিক সম্পাদিকার দায়িত্বে থাকা বিপাশা ইয়াসমিনকে বর্তমানে বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় পদে দেখা যাওয়ায় তার রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব দেওয়ার আগে বিপাশা ইয়াসমিন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ঐক্যজোটের সভাপতি সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে টানা তিন দিনের একটি সাংগঠনিক সফরে কুষ্টিয়ায় অবস্থান করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সফর শেষে ঢাকায় ফিরে আসার পরপরই তাকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠেছে—এই নিয়োগ কি নির্ধারিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়েছে, নাকি ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণে এত দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে বসানো হয়েছে।
এদিকে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই তথ্য প্রকাশের পর যে, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা যে মামলার এক নম্বর আসামি, সেই মামলায় বিপাশা ইয়াসমিনের নামও ১৩৯ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। এই তথ্য সামনে আসার পর শিক্ষক সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়।
সংশ্লিষ্ট মহল থেকে জানানো হয়েছে, এসব বিষয় সম্পর্কে সেলিম ভূঁইয়াকে একাধিকবার অবগত করা হলেও তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এতে সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ ও প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন শিক্ষকের এভাবে বারবার দল ও অবস্থান পরিবর্তন শিক্ষক রাজনীতিতে নৈতিক সংকটকে স্পষ্ট করে তোলে। তাদের ভাষায়, ক্ষমতা, পদ বা সুযোগের জন্য আদর্শ বদলের এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি পুরো শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এই প্রেক্ষিতে শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের একটি অংশ দাবি জানিয়েছে, অবিলম্বে বিএনপির হাই কমান্ডকে জানাতে চাই যেন বিপাশা ইয়াসমিনকে দল থেকে বের করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সুবিধাবাদী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাংগঠনিক পদে বা দলীয় কোন পদে স্থান না দেয়া হয়।
শিক্ষক সমাজ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ঐক্য জোটের প্যানেল থেকে বিপাশা ইয়াসমিনের অপসারণ দাবি করছে।







