নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি তেল, সিলিন্ডার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। দলটির নেতারা বলেছেন, বারবার জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেন, গত ছয় মাসে সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে বাসভাড়াসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও নতুন করে বেড়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে।
তাঁদের মতে, আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের পক্ষে সংসারের ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, জ্বালানি তেল ও সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে বিপর্যস্ত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাই বর্ধিত জ্বালানি মূল্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য তাঁরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু-কিশোরদের হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
দলটির নেতারা কিশোর গ্যাং, মাদক সরবরাহকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। তাঁরা বলেন, শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাঁদের মতে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
বৈঠকে দেশের সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন খেলাফত মজলিসের নেতারা। তাঁরা অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণের সুস্পষ্ট রায় এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে উপেক্ষা করে সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
দলটির নেতাদের অভিযোগ, ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’র মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধানের বিতর্কিত কাঠামো বহাল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন করে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তোলেন।
নেতারা বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে তাদের মতামত জানিয়েছে। তাই নতুন করে গণভোটের কথা না বলে জনগণের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা এড়িয়ে অবিলম্বে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে জনগণের রায়ের আলোকে সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
খেলাফত মজলিসের নেতাদের মতে, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে সব সংসদীয় রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একক কোনো উদ্যোগের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন সাদী, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, যুববিষয়ক সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম তুহিন, ডা. আবদুর রাজ্জাক আসাদ, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার এবং মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া।
বৈঠকে নেতারা জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণের রায়ের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।







