সিলেট: প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনপদে। গত চার দিনের টানা ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সিলেট বিভাগের চার জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার। একদিকে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ও মৌসুমী ফসলের জমি, অন্যদিকে বিদ্যুৎহীনতায় থমকে গেছে জনজীবন। কৃষকের চোখে এখন সোনালী ফসলের বদলে কেবলই কান্নার জল।
ফসলের মাঠে হাহাকার: শিলাবৃষ্টিতে স্বপ্নভঙ্গ
সিলেটের বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চার দিনের টানা বৃষ্টি আর সেই সঙ্গে তীব্র শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে শিলাবৃষ্টিতে ধানের ছড়াগুলো ঝরে গেছে এবং গাছ নুয়ে পড়েছে কাদামাটিতে।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র: স্থানীয় কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্যমতে, নিচু এলাকার প্রায় ৪০% ফসলি জমি এখন পানির নিচে।
কৃষকের আর্তনাদ: বালাগঞ্জ উপজেলার এক কৃষক বলেন, “হাজার টাকা ঋণ করে চাষ করেছিলাম। শিলাবৃষ্টিতে ধান সব শেষ, আর এখন যেটুকু ছিল তাও পানির তলে। আমরা এখন খাবো কী?”
বিদ্যুৎ সংকটে অচল জনজীবন
টানা বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সিলেট শহরসহ চার জেলার অধিকাংশ গ্রামীণ এলাকা এখন অন্ধকারে। ট্রান্সফর্মার বিকল হওয়া এবং গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
বিভাগীয় বিদ্যুৎ দপ্তরের বক্তব্য: বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্থানে সাব-স্টেশনে পানি ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। বৃষ্টি না কমলে মেরামত কাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালের জরুরি সেবা—সবকিছুতেই নেমে এসেছে স্থবিরতা।
আগামী দিনের শঙ্কা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। এতে করে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করা এবং বাঁধ রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।







