চরফ্যাশনে জামায়াত -বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে বলে দুই দলের নেতারা দাবি করেছেন। আহতদের মধ্যে গুরুত্ব আহত প্রায় ২০ জন কে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় জিন্নাগড় ইউনিয়নের চক বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতদের নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিতে আসলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, সকাল ৮টায় দাঁড়িপাল্লা মার্কার গণসংযোগ শেষে চক বাজারে জামায়াত কর্মী গ্রাম্য ডাক্তার জামাল ফার্মেসিতে বসলে স্থানীয় ৩ জন বিএনপি কর্মী তার ফার্মেসিতে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামের পক্ষে গণসংযোগে যেতে নিষেধ করে। গ্রাম্য ডাক্তার জামাল তাদের কাছে কারণ জানতে চাইলে তাকে তারা মারধর করেন। এতে তিনি বুকেও পিঠে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। আহত জামালকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতাল আনতে চাইলে বিএনপি’র নেতা কর্মীরা তাকে বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ও জামায়াতে ইসলামের নেতা কর্মীরা উদ্ধার করে চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে চকবাজারে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অ্যাম্বুলেন্স সহ জামায়াতে ইসলামী’র নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়।
এব্যাপারে হাসপাতালে আহত কর্মীদের দেখতে এসে ভোলা -৪ ( চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনের জামায়াতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল সাংবাদিককে বলেন, আমরা এই পৈশাচিক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাথে জড়িত বিএনপির কর্মীদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। যারা নির্বাচনীয় প্রচার, প্রচারণায় বাঁধা,বিঘ্ন ঘটাতে চায়,প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহণের দাবি করছি।
ইসলামী আন্দোলনের ভোলা দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাসউদ্দীন বলেন,জামায়াত কর্মীদের উপর হামলার পর, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে প্রশাসনের সামনে ২দফা হামলার ঘটনায়
ন্যাক্কারজন। আমি এই হামলার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।
বিএনপি’র স্থানীয় নেতারা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, জামায়াত গণসংযোগে আমাদের নেতা কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে। তাদের হামলায় আমাদের অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। তারা নির্বাচন বানচাল করতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। এদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।
তবে এসময় চরফ্যাশন হাসপাতালের সামনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নৌবাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে।
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, কোন পক্ষ এখনো অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







