আবদুল হান্নান হীরা: বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি আয়োজিত দুদিনব্যাপী শিশুসাহিত্য উৎসবের সমাপনী দিনে বক্তারা বলেছেন, শিশুসাহিত্য হলো ছোটোদের এক রঙিন জগৎ। তাদের মনে বিশুদ্ধ আনন্দরস সঞ্চারের জন্য এই সাহিত্য রচনা করা হয়। এগুলো পড়ে ছোটোরা মজা পায়, আনন্দ পায়, পরিতৃপ্ত হয়। ছ্োেটাদের চঞ্চল, কল্পনাপ্রবণ ও জিজ্ঞাসু মনকে অনুষঙ্গ করে সাহিত্য রচনা করেন লেখকরা। তাঁরা বলেন, হাসি, কৌতুক, মজা বা আনন্দ গ্রহণের অন্তরালে ছোটোরা অনায়াসে পেয়ে যায় জাগতিক জ্ঞান, বুদ্ধি-যুক্তি ও চিন্তার চমৎকার উপাদান। শিশুসাহিত্যিকদের এসব রচনা থেকে জীবনকে দেখবে এবং অনিসন্ধিৎসু মন দিয়ে খুঁজে পায় জীবনের বিচিত্র রূপ।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত শিশুসাহিত্যিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ঝর্না রহমান। কবি জসিমউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন গল্পকার বিপুল বড়ুয়া, শিশুসাহিত্যিক আহমেদ জসিম, কথাসাহিত্যিক মিলা মাহফুজা, প্রাবন্ধিক কাঞ্চনা চক্রবর্তী।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় ‘নতুন বইয়ের সৌরভে : পাঠ-উন্মোচন’ অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক দীপক বড়ুয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ড. হরিশংকর জলদাস। এতে যাঁদের বইয়ের পাঠ উন্মোচন হয়, তাঁরা হলেন-দীপক বড়ুয়া- রাঙা পায়ে বিকেল চলে, সৈয়দ জিয়াউদ্দিন- জুম সবুজের পাহাড়ে, ইফতেখার মারুফ- পাক্কা রাঁধুনি, চন্দ্রশিলা ছন্দা – শ্রাবণ দিনের চিঠি, কাসেম আলী রানা- বাবার জন্য লাল গোলাপ, লিটন কুমার চৌধুরী- ঘুঘু ডাকা রোদের দুপুর, রুনা তাসমিনা- সোনালী জানালার রহস্য, ফারহানা ইসলাম রুহী- জঙ্গলে রহস্যময় পাহারাদার, জোনাকি দত্ত-দুরবিন মামার চাঁদ দেখা, ইলিয়াছ হোসেন- আমায় ডাকে সন্ধ্যাতারা, জিএম জহির উদ্দীন-মেঘের দেশে সূর্য হাসে, রাসু বড়ুয়া- নীল নীলিমায় রঙিন ঘুড়ি, ইসমাইল জসীম -গুহার ভেতর একদিন, অরুণ শীল- চট্টগ্রামের শিশুসাহিত্য, কানিজ ফাতিমা- ঘাসের ডগায় শিশির নাচে, সুবর্ণা দাশ মুনমুন-পকেটে তার হাওয়াই মিঠাই। এরপর ছোটোদের নাটক বিষয়ে কথামালায় অতিথি ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব রবিউল আলম। শুরুতে ‘হই বইমুখী- হবো চিরসুখী’ : শিক্ষক-অভিভাবক সংলাপে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ তরুণ কান্তি বড়ুয়া। এতে অতিথি ছিলেন গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক। আলোচক ছিলেন ড. নারায়ন বৈদ্য, ড. প্রণব কুমার চৌধুরী, নেছার আহমদ, জাহাঙ্গীর মিঞা, মোহাম্মদ জহির, সাইফুদ্দিন আহমেদ সাকী, সুলতানা নুরজাহান রোজী, গাজী মোহাম্মদ নুরউদ্দিন।
দুই পর্বে স্বরচিত লেখা পাঠ পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি উৎপলকান্তি বড়ুয়া ও কবি মর্জিনা আখতার। অতিথি ছিলেন কবি অতনু টিকাইৎ ও অবিনাশ আচার্য।
ছড়া-কবিতাপাঠে অংশ নেন কবি এয়াকুব সৈয়দ, মাহবুবুল হাসান, আলেক্স আলীম, মৃণালিনী চক্রবর্তী, শিবুকান্তি দাশ, বশির উদ্দিন কনক, বিচিত্রা সেন, ফারজানা রহমান শিমু, হাসান মেহেদী, কৌশিক রেইন, অপু চৌধুরী, কুতুবউদ্দিন বখতেয়ার, সিমলা চৌধুরী, আলম নজরুল, নূরনাহার নিপা, বিকাশ বড়ুয়া, মাহবুব পলাশ, নান্টু বড়ুয়া, শেলীনা আকতার খানম, রায়হানা হাসিব, চাঁদ সুলতানা নকশী, সেবপ্রিয় বড়ুয়া সিদ্ধার্থ, দেবাশীষ কান্তি বিশ্বাস, রোকেয়া হক, সালাউদ্দিন শাহরিয়ার, মুহাম্মদ মহসীন চৌধুরী, প্রীতিশ রঞ্জন বড়ুয়া, আরিফ রায়হান, পিংকু দাশ, কুমুদিনী কলি, সোমা মুৎসুদ্দী, বিভাস গুহ, লিপি তালুকদার, তটিনী তনু, প্রতিমা দাশ, আশীষ বসাক, ছন্দা চক্রবর্তী, মিলন বনিক, শিরিন আফরোজ, সুমি দাশ, রাফিয়া ডলি, নুসরাত সুলতানা, খন রঞ্জন রায়, ফারিহা জেসমিন ইসলাম, নাসিমা শওকত, মহুয়া চৌধুরী, নেভি বড়ুয়া, মোহাম্মদ আবু তাহের কাজল, নিলুফা ইয়াসমিন জয়িতা, সবুজ বড়ুয়া, মাজাহার হেলাল, জিতেন্দ্রলাল বড়ুয়া, দীপিকা বড়ুয়া, মোঃ জসিম উদ্দিন চৌধুরী, এস এস ফোরকান আবু, তুহিন তঞ্চঙ্গ্যা, নাহিদ আকতার লাকী, মহিউদ্দিন ইমন, শর্মিষ্ঠা চৌধুরী, মনজুর আলম মঞ্জু, জনপ্রিয় বড়ুয়া, সুপর্ণা লিপি বড়ুয়া, মোহাম্মদ নূর উদ্দীন, মোয়াজ্জেম হোসেন, শাহিদা আয়শা, মর্জিনা হক চৌধুরী পপি, আবদুল হান্নান হীরা, মোঃ আসিফ ইকবাল, কাকলী দাশগুপ্তা, আহসান হাবীব নাসিম, রাজশ্রী মজুমদার, শর্মি বড়ুয়া, কানিজ ফাতেমা লিমা, সঞ্চিতা তালুকদার প্রমুখ।
এরআগে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ১৫ জন কৃতী লেখক। তাঁরা হলেন, ড. হরিশংকর জলদাস, সুজন বড়ুয়া, ড. মারুফুল ইসলাম, রহীম শাহ, আনজীর লিটন, ড. সুরেশ রঞ্জন বসাক, রবিউল আলম, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, ঝর্না রহমান, রফিকুর রশীদ, মুহাম্মদ শামসুল হক, ড. তপন বাগচী, জি এইচ হাবীব, ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। বৃন্দ আবৃত্তি ও জাতীয় সংগীত দিয়ে উৎসবের সূচনা করেন উঠোন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীবৃন্দ। এরপর গ্রন্থসুহৃদ সম্মাননা প্রদান করা হয় শিক্ষাসংগঠক মুহাম্মদ মুজিবুর রহমানকে। শিক্ষাবিদ ড. আনোয়ারা আলমের সভাপতিত্বে সূচনা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির পরিচালক রাশেদ রউফ। বাচিকশিল্পী আয়েশা হক শিমুর সঞ্চালনায় উৎসবে ‘কিশোরগল্প : স্বপ্নে সৃজনে আগামী দিন’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন কবি-কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, অতিথি ছিলেন সাহিত্যিক রফিকুর রশীদ। সূচনা বক্তব্য দেন কথাসাহিত্যিক নাসের রহমান। ‘বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যে অনুবাদ’ শীষক আলোচনায় অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ ড. সুরেশ রঞ্জন বসাক ও জি এইচ হাবীব। শিশুসাহিত্যের দুই অভিযাত্রী -আখতার হুসেন ও আমীরুল ইসলাম : শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি অরুণ শীল। এতে অতিথি ছিলেন কবি-শিশুসাহিত্যিক ড. মারুফুল ইসলাম, আলোচনা করেন কবি রমজান মাহমুদ, ইমরান পরশ, নাফে নজরুল এবং পাঠে অংশ নেন সুসেন কান্তি দাশ, সুপ্রিয়া বড়ুয়া, পান্না দাশ। এরপর ‘কিশোরকবিতা : স্বপ্নে সৃজনে আগামী দিন’ : আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন কবি-সাহিত্যিক ওমর কায়সার, অতিথি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক সুজন বড়ুয়া। কিশোরকবিতা পাঠ করেন কবি কেশব জিপসী, সিতাংশু কর, আজিজ রাহমান, আবুল কালাম বেলাল, আনোয়ারুল হক নূরী, অমিত বড়ুয়া, আকাশ আহমেদ, বাসুদেব খাস্তগীর, সনজিত দে, শিবুকান্তি দাশ, ইসমাইল জসীম, কানিজ ফাতিমা, সুবর্ণা দাশ মুনমুন, প্রদ্যোত কুমার বড়ুয়া।
বিকেলে ‘ছোটোদের সৃজনশীলতা’ নিয়ে কথামালায় সভাপতি করেন কবি সনজীব বড়ুয়া। আলোচক ছিলেন সাহিত্যিক ফারহানা মান্নান। সূচনা বক্তব্য দেন লেখক এস এম আবদুল আজিজ। সুকুমার বড়ুয়া স্মারকগ্রন্থ পাঠ উন্মোচন পর্বে সভাপতিত্ব করেন প্রাবন্ধিক নিজামুল ইসলাম সরফী, অতিথি ছিলেন কবি-শিশুসাহিত্যিক রহীম শাহ। আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক শাকিল আহমদ, রশীদ এনাম, রঞ্জনা বড়ুয়া। আবৃত্তি করেন সৌভিক চৌধুরী ও রিনিক মুন। ‘ভবিষ্যতের ছড়া : স্বপ্নে সৃজনে’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন শিশুসাহিত্যিক জসীম মেহবুব, অতিথি ছিলেন কবি-শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন। ছড়া পাঠে অংশ নেন কবি জাহাঙ্গীর আজাদ, জিন্নাহ চৌধুরী, অপু বড়ুয়া, তালুকদার হালিম, কাজী মোহিনী ইসলাম, সিরাজিয়া পারভেজ, আরিফ নজরুল, আল জাবিরী, গাজী আবু হানিফ, গাজী শাহিদুজ্জামান লিটন, মাসুম হাসান, সাব্বির আহমেদ সেন্টু, সাদিয়া আফরিন, লিপি বড়ুয়া, আনোয়ারুল করিম, ইকরামুল হক ইলি, হুমায়ুন আবিদ, পুষ্পিতা সেন, মাইছুরা ইশফাত, সাইফুদ্দিন সাকিব, খালেছা খানম। সন্ধ্যায় টুইক টুইক বেড়ালছানা : পাঠ প্রতিক্রিয়া পর্বে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর রীতা দত্ত, অতিথি ছিলেন সমাজবিজ্ঞানী ড. ওবায়দুল করিম। আলোচক ছিলেন ড. উদিতি দাশ। সূচনা বক্তব্য দেন ড. সৌরভ শাখাওয়াত। এরপর ‘লেখালেখিতে সৃজনশীলতা ও এআই’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন কবিপ্রাবন্ধিক অভীক ওসমান। অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, আলোচক ছিলেন লেখক হাসান রাউফুন। শিশুসাহিত্যের প্রকাশনা : ছোটোদের বই হোক সবদিকে সেরা শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন প্রকাশক কামরুজ্জামান কাজল। অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক মাহফুজুর রহমান। আলোচক ছিলেন শিল্পী উত্তম সেন, শিশুসাহিত্যিক মিজানুর রহমান শামীম, প্রকাশনা বিশেষজ্ঞ মাহমুদুন নাহার। ‘প্রান্তিক জনপদে শিশুসাহিত্য’ : আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন কবি-শিশুসাহিত্যিক হাসনাত আমজাদ। অতিথি ছিলেন কবি-শিশুসাহিত্যিক প্রাবন্ধিক ড. তপন বাগচী। আলোচক ছিলেন কবি জাকির হোসেন কামাল, মাহফুল আখতার, চন্দন কৃষ্ণ পাল, আতিক রহমান, ওমর ফারুক নাজমুল, নজরুল ইসলাম শান্তু, ড. গৌরী ভট্টাচার্য, সোহেল সৌকর্য, মিনহাজ ফয়সল, আমির হামজা, জালাল খান ইউসুফী, পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী, মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ।
দুই পর্বে লেখা পাঠে সভাপতিত্ব করেন কবি গোফরান উদ্দীন টিটু ও সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার। অতিথি ছিলেন কবি-শিশুসাহিত্যিক স ম শামসুল আলম ও অচিন্ত্য সুরাল। লেখা পাঠ করেন মাহবুবা চৌধুরী, স্বপন কুমার বড়ুয়া, তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী, মুহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, মারজিয়া খানম সিদ্দিকা, সমীরণ বড়ুয়া, সুব্রত কুমার নাথ, উজ্জ্বল সম্পু, পলাশ মুৎসুদ্দী, জেবারুত সাফিনা, কোহিনুর আকতার, শুকলা আচার্য্য, নাঈমা হক সূচি, গৌতম কানুনগো, শামসুদ্দোহা সওগাত, রফিক রিজভী, পুলক চন্দ, মলিনা মজুমদার, শওকত আলী সুজন, মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন, তানজিনা রাহী, শরণঙ্কর বড়ুয়া, মোহাম্মদ ইসমাইল, মান্নান মাহমুদ, শিউলি বড়ুয়া, মিতা পোদ্দার, বাবলী দাশ, এস টি এফ যূঁথী, মীর আমীর খান, রিপন চক্রবর্তী, সাবরিনা আফরোজা, আরহাম রহমান ফারুকী, ইকবাল হায়দার, রঞ্জন বণিক, ডা. কল্যাণ বড়ুয়া, নিবেদিতা বড়ুয়া, মানস পাল চৌধুরী, নাসিম আখতার রিনা, কামরুল আনোয়ার চৌধুরী, সৈয়দা সেলিমা আক্তার, সৈয়দা করিমুননেসা, সত্যজিৎ দাশ কাঞ্চন, নীল রতন দাশগুপ্ত, শিউলী নাথ, হেলাল চৌধুরী, শিমলী দাশ, আয়েশা পারভীন চৌধুরী, সালাম সৌরভ, তানভীর হাসান বিপ্লব, লাকী সেন, মুশফিকুর রহমান, দুলাল কান্তি চৌধুরী, বনানী শেখর রুদ্র, শবনম ফেরদৌসী, শাহীন ফেরদৌসী, পূর্বা চৌধুরী, মুহাম্মদ এনামুল হক মিঠু, নাহিদ আকতার লাকী, জেসমিন সুলতানা চৌধুরী, নাজমুল হাসান চৌধুরী হেলাল, ফাতেমা ফেরদৌস নীপা, পথিক উত্তম, সুমন মজুমদার, এনায়েত হোসেন পলাশ, জায়তুননেসা জেবু, অনামিকা বড়ুয়া, চম্পা চক্রবর্তী, মুক্তা রানী দেবী, মৌসুমী সরকার, সুস্মিতা তালুকদার মিতুল, প্রণবরাজ বড়ুয়া, সঞ্চিতা তালুকদার, নাজনীন আমান, শুভাশীষ দত্ত ভানু, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ প্রমুখ।







