নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও খামারিদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে নিরাপদ ও উচ্চ গুণসম্পন্ন লাভজনক ডিম উৎপাদন বিষয়ক খামারি প্রশিক্ষণ। অপ্রচলিত অথচ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান—যেমন মরিঙ্গা পাতা (সজনে পাতা), অ্যাজোলা ও ডিমের খোসা—ব্যবহার করে কীভাবে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও লাভজনকভাবে ডিম উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া হয় এ প্রশিক্ষণে।
গত ২৬ জানুয়ারি (সোমবার) গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে গাজীপুর সদর উপজেলার ৪০ জন খামারি অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণটি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়—তাত্ত্বিক আলোচনা এবং মাঠ পর্যায়ের হাতে-কলমে প্রদর্শনের মাধ্যমে।
প্রশিক্ষণের প্রথম পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাকৃবির বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ মামুনুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ বলেন,
“নিরাপদ ডিম উৎপাদন আজ সময়ের দাবি। খামারে স্থানীয় ও অপ্রচলিত পুষ্টিকর খাদ্য উপাদানের সঠিক ব্যবহার শুধু উৎপাদন বাড়ায় না, বরং মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাকৃবির গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হলেই কৃষি ও পোল্ট্রি খাতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।”
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ জ্ঞান যখন সরাসরি খামারির হাতে পৌঁছে যায়, তখনই তার প্রকৃত সার্থকতা আসে। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারিরা যেমন উপকৃত হন, তেমনি সমাজও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের সুফল পায়।”
প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় পর্বে মূল আলোচক হিসেবে ডেইরি অ্যান্ড পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি গাকৃবির খামারে খামারিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। তিনি অপ্রচলিত খাদ্য উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে ডিমের গুণগত মান বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার কৌশল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ পর্যায়ে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি পৌঁছে দিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, খামারিদের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের পোল্ট্রি খাতকে আরও টেকসই ও লাভজনক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।







